SHARE

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) লাইসেন্স ফি ১০ থেকে ২৫ গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি মাসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিশেষ কমিশন বৈঠকে আইএসপি নীতিমালার বিষয়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, নেশনওয়াইড আইএসপির জন্য নতুন লাইসেন্স ফি ঠিক করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।

এ ধরনের আইএসপির বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন ফি হবে ৫ লাখ টাকা। দুই ক্ষেত্রেই এর আগে ফি ছিল ১ লাখ টাকা করে। সেন্ট্রাল জোন আইএসপির নতুন লাইসেন্স ফি ১৫ লাখ ও লাইসেন্স নবায়ন ফি ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আর জোনাল আইএসপির নতুন লাইসেন্স ফি ১০ লাখ ও নবায়ন ফি ২ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে বিটিআরসি। বাড়তি লাইসেন্স ফি ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটের ব্যবসা করে বছরে যা আয় করবে তার ১ শতাংশ অর্থ ‘রেভিনিউ শেয়ারিং’হিসেবে বিটিআরসিকে দিতে হবে।

এ ছাড়া আইএসপির বার্ষিক আয়ের আরও ১ শতাংশ বিটিআরসির সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে (এসওএফ) জমা দিতে হবে।

এসব প্রতিষ্ঠান বছরে যে আয় করে তার ২ শতাংশ অর্থও এখন থেকে সরকারকে দিতে হবে। আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার খরচ বাড়াবে।

বাংলাদেশে আইএসপি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সকে ছয় ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো নেশনওয়াইড, সেন্ট্রাল, জোনাল, ক্যাটাগরি এ, ক্যাটাগরি বি ও ক্যাটাগরি সি। নেশনওয়াইড আইএসপিগুলো সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা দিতে পারে। এ ছাড়া অন্য শ্রেণির আইএসপিগুলো বিটিআরসি নির্ধারিত বিভাগ ও অঞ্চল অনুযায়ী ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে।

বিটিআরসির তথ্যমতে, নেশনওয়াইড ১২৯, সেন্ট্রালজোন ৭০ এবং জোনাল ৭৬টি লাইসেন্স রয়েছে।এছাড়া ক্যাটাগরি এ, বি ও সিতে যথাক্রমে ২২৮, ৩১ ‍ও ৯১টি লাইসেন্স রয়েছে। এরমধ্যে এ, বি ও সি ক্যাটাগরির লাইসেন্সে আইএসপিএবি ও সাইবার ক্যাফে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সারা দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের ৪০ লাখ গ্রাহক রয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব আইএসপি বিভিন্ন শ্রেণিতে আগেই লাইসেন্স নিয়েছে, তাদের আবার ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা করে জমা দিয়ে নতুন লাইসেন্স নিতে হবে। এ ছাড়া সাইবার ক্যাফেসহ আইএসপির ক্ষেত্রে বর্তমান প্রচলিত লাইসেন্সের পরিবর্তে ‘রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত ক্যাটাগরিভিত্তিক লাইসেন্স বিলুপ্ত হবে অর্থাৎ পূর্বের মতো এ, বি, বা সি এমন কোনো ক্যাটাগরি থাকবে না।

উল্লেখ্য, আইএসপির লাইসেন্সিং ফি অনুসারে, নেশনওয়াইড আইএসপির বার্ষিক লাইসেন্স ফি এক লাখ টাকা, সেন্ট্রাল জোন ৫০ হাজার ও জোনালের ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির ফি ৫ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির ২ হাজার ৫০০ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির লাইসেন্সের জন্য বার্ষিক লাইসেন্স ফি দিতে হয় ৫০০ টাকা।