SHARE
বাংলাদেশে এখন পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন ব্রান্ডের এসি

বর্তমানে বাজারে প্যানাসনিক, এলজি, সনি, ক্যারিয়ার, শার্প এবং ওয়ারপুল ব্র্যান্ডের এসির চাহিদা বেশি। এসি কেনার আগে খেয়াল রাখতে হয় জরুরী কিছু বিষয়ের উপর যেমন ঘরের আকার, ঘরের জানালা, এসির প্রকার। নয়ত সখের এসি হতে পারে আপনার ভোগান্তির কারণ। তাই নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করে কিনে ফেলুন আপনার পছন্দের এসি।

ঘরের আকার অনুসারে এসির প্রকার  এসি কেনার আগে ঘর কত স্কয়ার ফিট তা জানা দরকার। ঘরের আয়তন সর্বোচ্চ ১৪০ স্কয়ার ফিট পর্যন্ত হলে এক টন ক্ষমতাসম্পন্ন এসি কিনলেই চলবে। তবে ঘরের আকার ১৪০ থেকে ১৯৬ স্কয়ার ফিটের মধ্যে হয় তবে দেড় টন কার্যক্ষমতার এসি কিনতে হবে। যে ঘরে এসি বসাবেন তাতে যদি জানালা থাকে তবে পছন্দ অনুসারে ভালো ব্র্যান্ড দেখে ‘উইন্ডো এসি’ কিনে নিতে পারেন। ঘরের আকার যদি বড় হয় কিংবা ঘরে যদি কোনো জানালা না থাকে তবে ‘স্প্লিট এসি’ কিনতে হবে। মূলত বসার ঘর কিংবা অফিসের বড় রুমে ব্যবহারের জন্য ‘স্প্লিট এসি’ কেনা হয়।

এসির ব্র্যান্ড ও দাম:

ওয়ালটনঃ- দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালটন’ বাজারে এনেছে বিভিন্ন মডেলের এয়ার কন্ডিশনার। বিভিন্ন জায়গায় ওয়ালটনের শো রুমে পাওয়া যাবে চারটি ভিন্ন ভিন্ন মডেলে। মানভেদে এসব এয়ার কন্ডিশনারগুলোর দাম ৪২ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। শর্তসাপেক্ষে ওয়ালটন এসিতে দিচ্ছে ছয় মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি এবং তিন বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।

প্যানাসনিকঃ-  এই ব্র্যান্ডের এক টন ক্ষমতার ইনভার্টার এসি পাওয়া যাবে ৮২ হাজার টাকায়। দেড় টন ক্ষমতার ইনভার্টার এসি কিনতে হলে গুনতে হবে ১ লাখ টাকা। একই ব্র্যান্ডের ইকোন্যাভি এসির দাম এক থেকে দেড় টনের জন্য ৭৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এছাড়া প্যানাসনিক’য়ের এক টন ক্ষমতার এসিতে ইনভার্টার এবং ইকোন্যাভি অপশন একই সঙ্গে পেতে হলে খরচ করতে হবে ১ লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা। এই এয়ার কন্ডিশনারগুলোর উপর দুই বছরের পার্টস ওয়ারেন্টি এবং তিন বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এলজিঃ- এলজি’র নিজস্ব শো রুমে পাওয়া যাবে বিভিন্ন মডেলের স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার। এক্ষেত্রে এক থেকে দেড় টন ক্ষমতার এলজি এসি গুলোর দাম হতে পারে ৬৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এলজি’র এসিগুলোর দাম কিস্তির মাধ্যমে দেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে এসির মূল দামের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করে বাকি টাকা সাড়ে তিন শতাংশ সুদ হারে তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

বিবিধঃ- র‌্যাংগস’এর এক থেকে দুই টন ক্ষমতার এসি ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায়, ‘ক্যারিয়ার’ ব্র্যান্ডের এসি ৪৫ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকায় এবং ‘ওয়ারপুল’য়ের দেড় থেকে দুই টনের এসি ৭৪ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকায় পাওয়া যাবে। ‘স্যামস্যাং’য়ের এক টন ক্ষমতার এসি পাওয়া যাবে ৫৮ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায়।
উইন্ডো এসি’র ক্ষেত্রে জেনারেল’এর দেড় টনের এসি পাওয়া যাবে ৫২ থেকে ৫৫ হাজার টাকায়। একই ব্র্যান্ডের দুই টনের উইন্ডো এসি কিনতে হলে গুনতে হবে ৬৫ থেকে ৬৯ হাজার টাকা। ‘ক্যারিয়ার’য়ের উইন্ডো এসি পাওয়া যাবে ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। একই দামের মধ্যে ‘গ্রি’ ব্র্যান্ডের উইন্ডো এসি পাওয়া যাবে।

এসির যত্ন: এসির ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল ‘কুলিং’ বা ঠাণ্ডা করার ক্ষমতা কমে যাওয়া। এক্ষেত্রে এসির ভেতরের নেট খুলে ডাস্ট ক্লিনিং করে নিতে হবে। ব্যবহারকারী নিজেই সাধারণ উপায়ে এসির ইনডোর খুলে নেট ওয়াশ করে নিতে পারেন।

এছাড়া কুলিং একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে বুঝতে হবে এসির ভেতরে গ্যাস ফুরিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেবা প্রদানকারী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গ্যাস রিফিল করে নিতে পারেন। বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের সময় পার হয়ে গেলে সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে।