SHARE
Picture Credit- @ICC / twitter

ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় ক্রিকেটীয় পরিভাষা ও পদ্ধতি। সাধারণত বৃষ্টিবিঘ্নিত কিংবা দিনের আলোকস্বল্পতাজনিত কারণে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা টুয়েন্টি২০ খেলায় ফলাফল আনয়ণকল্পে স্বচ্ছ এবং সঠিক পদ্ধতি হিসেবে রানকে ঘিরে পরবর্তীতে ব্যাটিং করা দলকে পুণরায় জয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা প্রদান করা হয়।

দুই বৃটিশ নাগরিক – পরিসংখ্যানবিদ ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ এবং গণিতজ্ঞ টনি লুইস ডি/এল মেথড বা ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির প্রধান প্রবক্তা।

এই মেথড চালু হবার আগে আরও দুটি মেথড চালু ছিল। এর মধ্যে বেশি প্রচলিত ছিল MPO মেথড বা Most Productive Over Method. এই পদ্ধতির বড় গলদ ধরা পড়ে ১৯৯২ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনাল ম্যাচে। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১ বলে ২২ রানের অবাস্তব টার্গেট দেয়া হয়।

ডি এল মেথডের প্রথম ব্যবহার ঘটে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে বনাম ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ম্যাচে। ঐ খেলায় জিম্বাবুয়ে ডি/এল মেথডে ৭ রানে জয়ী হয়। ২০০১ সালে আইসিসি এই মেথড আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে।

ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ (বামে) এবং টনি লুইস (ডানে)
ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির ব্যবহারঃ 

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির প্রধান উপাদান হচ্ছে রিসোর্স বা সম্পদ। প্রত্যেক দল দুইভাবে সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারে। একটি দলের নির্দিষ্টসংখ্যক ওভারকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো এবং দলে কয়টি উইকেট বর্তমান রয়েছে। ইনিংসের যে-কোন সময় দলের রান করার সক্ষমতা নির্ভর করে এ দু’টি বিষয়ের উপর। ডিএল মেথড যেভাবে অ্যাপ্লাই হবেঃ

১. ইনিংসের শুরুতে রিসোর্স পার্সেন্টেজ যত ছিল

২. বিরতির ফলে যেটুকু রিসোর্স নষ্ট হবে

৩. বাকি যা রিসোর্স থাকবে

এখন, পরে ব্যাট করা দলের রিসোর্স যদি প্রথমে ব্যাট করা দলের থেকে কম হয়, তাহলে দুই দলের বাকি থাকা রিসোর্সের রেশিও করতে হবে। এরপর পরে ব্যাট করা দলের টার্গেট হবে প্রথমে ব্যাট করা দলের স্কোর কে সেই রেশিও দিয়ে ভাগ করে।

যদি পরে ব্যাট করা দলের রিসোর্স প্রথমে ব্যাট করা দলের রিসোর্সের থেকে বেশি হয়, তাহলে ১ম দলের রিসোর্স কে ২য় দলের রিসোর্স থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে। এরপর এটাকে ২২৫ এর পার্সেন্টেজ বানাতে হবে (আইসিসি নির্ধারিত ওয়ানডের গড় স্কোর)। এরপর সেটাকে প্রথমে ব্যাট করা দলের রানের সাথে যোগ করে পরে ব্যাট করা দলকে টার্গেট দিতে হবে।

অনলাইন থেকে সংগৃহীত
১ম ইনিংস বাঁধাপ্রাপ্ত হলেঃ  

জানুয়ারী, ২০১১ সালে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ৫ম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় ১ম ইনিংসে বৃষ্টি দু’বার হানা দেয়। ফলে ম্যাচটিকে ৪৬ ওভারে নিয়ে আসা হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল ৯ উইকেটের বিনিময়ে ২৫০ রান করে। পরে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি অনুসরণ করে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় ২৬৮ রান করার জন্য।

ওভার কমানোর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে এ পদ্ধতি বেশ কাজ দেয়। কেননা, প্রথমে বাধাগ্রস্ত না হলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর আরও বেশি হতে পারতো। ফলাফল হিসেবে ভারতীয় অল-রাউন্ডার ইউসুফ পাঠানের ঝড়োগতিতে ৭০ বলে ৮টি চার ও ৮টি ছয়ে গড়া ১০৫ রান করা সত্ত্বেও ভারতীয় দল ২৩৪ রানে অল-আউট হয় এবং উক্ত খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩ রানের জয়ের পাশাপাশি ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়লাভ করে।

২য় ইনিংস বাঁধাপ্রাপ্ত হলেঃ

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে একটি সাধারণ উদাহরণ হিসেবে ২০০৬ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার ১ম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলাটি উল্লেখযোগ্য। ভারত প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৪৯ ওভারে ৩২৮ রান করে অল-আউট হয়। পরে ২য় ইনিংসে ৪৭তম ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করে পাকিস্তান ৭ উইকেটের বিনিময়ে ৩১১ রান তুলে কিন্তু আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা শেষ হয়ে যায়।

এ উদাহরণে দেখা যায় যে, পাকিস্তান ৩২৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অগ্রসর হয় এবং ৩ উইকেট, বেশকিছু বল এবং ১৮ রানের দরকার ছিল। গড়পড়তা রানরেট বিবেচনায় আনলে উভয় দলই জয়ের দাবীদার ছিল। কিন্তু ডি/এল মেথডে দেখা যায় যে, ৪৭ ওভার শেষে ৩০৪ রান করলেই জয় পেয়ে যেত। ফলাফল হিসেবে পাকিস্তান ৭ রানে জয়ী (ডি/এল মেথড) উল্লেখ করা হয়।

টুয়েন্টি-২০ ক্রিকেটঃ

২০১০ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্বকাপ টি-২০ খেলার গ্রুপ পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ের খেলায় ডি/এল মেথড পদ্ধতি প্রয়োগ একই দিনে অন্য গ্রুপের খেলায় ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলার ফলাফলও ডি/এল মেথডের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৯১ রানের বিরাট স্কোর গড়ে। বিশাল রানকে তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২.২ ওভারে বিনা উইকেটে ৩০ রান করা অবস্থায় বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ ওভারে ৬০ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়, যা ক্যারিবীয় দলটি এক বল বাকী থাকতেই জয়ের নোঙরে প্রবেশ করে।

খেলায় পরাজিত হয়ে হতাশ ইংরেজ অধিনায়ক পল কলিংউড ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতির সঠিক ব্যবহার এবং টি-২০ প্রতিযোগীতায় এর উপযোগিতা ও প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাসহ প্রশ্ন তোলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here