SHARE

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে কলোরাডোর ডিস্ক জকি (ডিজে) ডেভিড মুলারের বিপক্ষে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দুই বছর আগে করা মামলার সাক্ষ্য দিলেন গ্র্যামিজয়ী ২৭ বছর বয়সী মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার টেলর সুইফট। সাক্ষ্যে টেলর সুইফট বলেন, চার বছর আগে মুলার মাতাল অবস্থায় এক ফটোসেশনে তাঁকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এবং ‘দীর্ঘসময়’ ধরে যৌন নির্যাতন করেছেন।

কাল আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মুলারের আইনজীবী গ্যাব্রিয়েল ম্যাকফারল্যান্ডের জেরার মুখে সুইফট ঝাঁজালো গলায় বলেছেন, ‘আপনার মক্কেল আমার নিতম্ব চেপে ধরেছেন। এটা ছিল ভীষণ শঠতা এবং চাতুর্যপূর্ণ আচরণ।’

সুইফটের অভিযোগ, ২০১৩ সালে কনসার্ট-পূর্ববতী একটি ফটোসেশনে তাঁর নিতম্ব চেপে ধরেছিলেন মুলার। যদিও ৫৫ বছর বয়সী সাবেক রেডি ডিজে মুলার এর আগে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, টেলর সুইফট মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, যার কারণে তাঁর চাকরি পর্যন্ত চলে গেছে।

ভীষণ জনপ্রিয় এ গায়িকা বিচারকদের সামনে বলেন, ‘সে অবশ্যই চেপে ধরেছিল। অনেকক্ষণ ওভাবেই ধরে রেখেছিল। এটা ছিল একেবারেই ইচ্ছাকৃত, সে আমার পেছনে হাত দিয়েছে। আমি টের পেয়েছি, স্কার্টের নিচ দিয়ে সে চেপে ধরেছে।’

আদালতে প্রায় এক ঘণ্টার মতো ছিলেন সুইফট। সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি জানান, সেই ফটোসেশনের আগে মুলার মাতাল ছিলেন। ফটোসেশনের সেই ছবি আদালতে বিচারকের সামনে কয়েকবার উপস্থাপন করা হয়েছে।

‘ফিয়ারলেস’ এবং ‘ফিফটিন’-এর মতো সফল অ্যালবাম উপহার দেওয়া সুইফটকে মুলারের আইনজীবী প্রশ্ন করেছিলেন, ঘটনাটির সময় তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা কেন হস্তক্ষেপ করেনি? সুইফটের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘কেউই আশা করেনি যে এ ধরনের কিছু ঘটতে পারে। আমার সঙ্গে এর আগে কখনোই এমন কিছু ঘটেনি। এটা ছিল জঘন্য এবং ভীতিজাগানিয়া।’

সেই ছবি তোলার দুদিন পর দেড় লাখ ডলার পারিশ্রমিকের শো ‘রাইনো অ্যান্ড জ্যাকসন’ থেকে ছাঁটাই হন মুলার। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, ঘটনাটির পর সুইফট কিন্তু প্রথমে মামলা করেননি। মুলারই প্রথমে মামলা করেছিলেন, সেটা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন মুলারের ভাষ্য ছিল, ফটোসেশনে সুইফটই তাঁর গায়ে হাত রেখেছিলেন। অথচ চাকরি গেছে তাঁরই।

একই মামলায় আদালত মুলারের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে গত মঙ্গলবার। তাঁর ভাষ্য, ‘সুইফটের গায়ে হাত দিয়েছি কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থেকে নয়। কোনো অসদাচরণ করিনি।’

সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মুলারের বিপক্ষে যৌন নিগ্রহের মামলা করেন সুইফট। এ মামলা বেশ ঝড় তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

সেই ছবির আলোকচিত্রী স্টেফানি সিম্বেকের সাক্ষ্যও নিয়েছে আদালত। আলোকচিত্রী বলেছেন, তাঁর মনে হয়েছে, ছবি তোলার সময় সুইফট মুলারের হাত থেকে বাঁচতে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট