প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শুক্রবার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নতুন ছয়টি দেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ঘোষণা দিল।

সংবাদ সম্মেলনে ড. টেড্রস অ্যাডহানম বলেন , ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই ভাইরাস চিহ্নিত করা যাচ্ছে এখনো। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মেলেনি।’

এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি দেশে এই করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। চীন থেকে শুরু হলেও নতুন নতুন দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইরানে কমপক্ষে ২১০ জন মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। এই সংখ্যা ইরান সরকারের দেওয়া হিসাবের চেয়ে ৬ গুণ বেশি।

করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই ভাইরাসের কারণে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন। মৃত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনের হুবেই রাজ্যে। শুক্রবার চীনে নতুন করে ৩২৭ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে চীন সরকার। চলতি মাসে এক দিনে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দিক দিয়ে এটি সর্বনিম্ন। যদিও থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল। এই দিনে মারা গেছেন ৪৪ জন।

চীনে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৭৮ হাজার ৯৫৯, মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৮০০ মানুষের। বিশ্বের ৫৪টি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পরেছে, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। ইতোমধ্যে মারা গেছে ২ হাজার ৮৬১ জন।

লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকো, আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া, ইউরোপের ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস ও লিথুয়ানিয়ায় শুক্রবার প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সেখানে ৬৫০ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।