করোনা চিকিৎসায় আশার আলো জাগিয়েছে প্লাজমা থেরাপি

0
189

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় (Coronavirus Treatment) আশার আলো জাগিয়েছে প্লাজমা থেরাপি (Plasma Therapy)। সোমবার (১৮ মে) পুলিশ হাসপাতালে এই পদ্ধতি প্রয়োগের পর রোগীদের অক্সিজেন নেয়ার ক্ষমতা বেড়েছে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। আরও বড় আকারে প্লাজমা সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে।

গত ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফডিএ কোভিড-১৯ (Covid-19) রোগীদের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের সুপারিশ করে।

জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ আর্টুরো কাসাদেভাল গুরুতর অসুস্থ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এটি কার্যকর পদ্ধতি বলে অভিহিত করেছেন।

গত শনিবার (১১ মে) পাকিস্তানি চিকিৎসকরা প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে করোনা রোগী সুস্থ হওয়ার দাবি করেছেন। বর্তমানে পাকিস্তানের তিনটি হাসপাতালে প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছেন ।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে আরো পড়ুন :

করোনা মহামারীতে এজমা রোগীদের করণীয়

Coronavirus: ৫টি উপায় মেনে নিজেকে করোনা মুক্ত রাখুন

জেনে নিন: করোনা আক্রান্ত হলে করনীয়, কি খাবেন, কিভাবে সুস্থ হবেন ?

টাকার নোটের করোনা থেকে বাঁচার উপায়

করোনা আক্রান্ত রোগীদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর ব্যায়াম

ব্লাড প্লাজমা বা পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি (Plasma Therapy) কি?

একজন ব্যক্তির শরীরে উৎপন্ন এন্টিবডি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো। করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) এ আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-প্লাজমা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।

প্লাজমা থেরাপি (Plasma Therapy) কীভাবে কাজ করবে?

কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা কোনও ব্যক্তির plasma অর্থাৎ রক্তরস সংগ্রহ করে তা গুরুতর অসুস্থদের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। কারণ, একে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি বলে মনে করা হচ্ছে। সেই প্লাজমা গ্রহণ করে অসুস্থরা দ্রুত সেরে উঠতে পারেন। কারণ, জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।

যার কাছ থেকে এই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করা হচ্ছে তাঁকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় ‘প্লাজমা ডোনার’। তবে ওই ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে প্লাজমা নেওয়া হলেও রক্ত আবার দাতার শরীরেই ফিরে যাবে। একজন দাতার শরীর থেকে ৫০০ মিলিলিটার থেকে ১ লিটার পর্যন্ত প্লাজমা নেওয়া যেতে পারে। তবে পুরো রক্তের ভিত্তিতে সাড়ে তিনশো মিলিলিটার প্লাজমা পাওয়া যায় একজন দাতার শরীর থেকে।

এবার অ্যান্টিবডি সমৃদ্ধ এই প্লাজমা নতুন করোনা আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করালে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দেবে ওই অ্যান্টিবডি। এভাবেই সেরে উঠবেন আক্রান্ত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় প্যাসিভ ইমমুনিজশন (Passive Immunization)।

একজন করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তির প্লাজমা থেকে কতজন আক্রান্তের চিকিৎসা সম্ভব?

চিকিৎসকরা বলছেন, দাতার কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমার পরিমাণের উপর নির্ভর করছে, তা থেকে কতজন আক্রান্তের শরীরে অ্যান্টিবডি দেওয়া যাবে। একজন আক্রান্তকে সুস্থ করতে মোটামুটি ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার প্লাজমা প্রয়োজন। তবে মোটামুটি একটি নমুনা থেকে দুই থেকে পাঁচজন করোনা আক্রান্তকে সুস্থ করে তোলার প্রয়াস নেওয়া যেতে পারে।

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুর মহামারি এবং ১৯৩০ এর দশকে হামের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছিল। একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে ইবোলা, সার্স এবং ‌’এইচ-ওয়ান-এন-ওয়ান’ এর মতো রোগের চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি ব্যবহার করে ভারত, চীন, ব্রিটেন এবং আমেরিকা সফল হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এটা শতভাগ কার্যকরী কোন পদ্ধতি নয় ।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হওয়ার পর বিশ্বে এ পর্যন্ত ৪৮ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে আর মারা গেছে তিনলক্ষের বেশি মানুষ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৮৭০ জন এবং মৃত্যু বরণ করেছে ৩৪৯ জন।