আজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) শুরু হচ্ছে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর শুরু হয়েছে আমবয়ান। আগামী রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতোই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকছে দ্বিতীয় পর্বেও। এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যোহরের নামাজের পর থেকেই দিক নির্দেশনামূলক বয়ান শুরু হয়েছে। শুক্রবার ইজতেমা ময়দানের অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার জামাত।

দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমাতেও গাজীপুর সিটি করপোরেশন আগত মুসল্লিদের ২৪ ঘণ্টা সেবাদান করবে। বিদেশি মুসল্লিদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে যাতে তাদের কোনো প্রকার সমস্যা না হয়। তাদের ওজু, গোসলের জন্য রাখা হয়েছে গরম ও ঠান্ডা উভয় প্রকার পানির ব্যবস্থা।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ছয় উছুলের হকিকত, আম ও খাসবয়ান, দরসে কুরআন, দরসে হাদিস, তাশকিল, মাসলা-মাসায়েল আলোচনা, চিল্লায় নাম নিবন্ধন, নতুন জামাত তৈরি, তালিম, গাস্তের নিয়ম-কানুন শেখানো, ফাজায়েলে আমল, আখলাক ও আদব সম্পর্কে আলোচনা ও যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের অনুসারীরা অংশ নেন প্রথম পর্বে।

ইজতেমার প্রথম আয়োজন শুরু হয় ১৯৪৬ সালে কাকরাইল মসজিদে। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর লোক সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমানস্থলে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে সরকারিভাবে তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।