বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর

0
29

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদের ফাঁসি শনিবার দিবাগত রাতে কার্যকর করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাজেদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাসস’কে জানান, আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়। রাত ১২ টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যুর ডিক্লারেশন দেয়া হয়েছে।

ফাঁসির সময় মহাপরিদর্শক (কারা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ও ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দীর্ঘ ৪৫ বছর পরে মাজেদকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেয়া হলো।

এ নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ছয় খুনির ফাঁসি কার্যকর হলো। এর আগে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি খুনি বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহারিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

এর আগে শুক্রবার মাজেদের সাথে তার পরিবারের সদস্যরা কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেন।

বুধবার মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এর ফলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথে আর কোনো বাধা রইল না।

রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে স্থানান্তরের পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল উদ্বোধন হওয়া কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় এ কারাগারে এটাই হলো কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রথম ঘটনা।

কারা-কর্তৃপক্ষ শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই মৃত্যুদন্ড কার্যকরে আনুষ্ঠানিকতাগুলো এগিয়ে নিতে থাকে। কারাগারের ফাঁসির মঞ্চও প্রস্তুত করা হয়।

রাতে একে একে আইজি প্রিজন, অতিরিক্ত আইজি প্রিজন, ডিআইজি প্রিজন, সিনিয়র জেল সুপার, ঢাকার সিভিল সার্জন, কারাগারের দুজন সহকারী সার্জন, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি কারাগারে প্রবেশ করেন। মৃতদেহ রাখার জন্য আগেই কফিন এনে রাখা হয়।

কেন্দ্রীয় কারা কর্মকর্তারা জানান, মাজেদের দন্ড কার্যকরে প্রধান জল্লাদ ছিলেন শাহজাহান, তার সহকারী ছিলেন জল্লাদ মনির, সিরাজসহ ১০ জনের টিম। রাত ১১ টার দিকে কারা মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি ফারদুল্লাহ মাজেদকে তওবা পড়ান।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি দল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর থেকে মাজেদকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এএম জুলফিকার হায়াত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় মাজেদ, নূর ও মোসলে উদ্দিনসহ অন্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির রায় ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রাখে।

পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলে উদ্দিন।

এর মধ্যে নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী এবং মোসলে উদ্দিনের অবস্থান সরকার জানতে পারলেও অন্য তিন পলাতক রশিদ, ডালিম ও মাজেদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না।

নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা যায়।