গোর-এ শহীদ ঈদগাহে নামাজ পড়েছেন ৬ লাখ মুসল্লি!

0
174

বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় আয়তনে সবচেয়ে বড় জেলা দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন ৬ লাখ মুসল্লি।

আয়োজকরা এই সংখ্যাকে রেকর্ডসংখ্যক মুসল্লির সমাগম বলে দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এবারে গত বছরগুলোর চেয়ে বেশি সংখ্যক মুসল্লির সমাগম হয়েছে।

ঈদগাহের পরিকল্পনাকারী ও প্রধান উদ্যোক্তা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেছেন, এবারে এই ঈদের জামাতে একসঙ্গে ৬ লাখ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছে।

বুধবার সকাল পৌনে ৯টায় ৫ম বারের মতো ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে।

সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও কোনো বৃষ্টি হয়নি। রোদ কম থাকায় শান্তিপূর্ণভাবেই নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে একসঙ্গে ১০ লাখ মুসল্লি যাতে করে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে সে ধরনের প্রস্তুতি ছিল বলে জানানো হয়েছে।

ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোরে-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ঈদগাহ মাঠটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও মনোরম কৃতির সৌন্দর্য ও নান্দনিক হিসেবে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।

ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাব (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন), তার উচ্চতা ৪৭ ফুট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

ঈদগাহ মাঠের দুধারে করা হয়েছে ওজুর ব্যবস্থা। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। রাত হলে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে উঠে।

ঐতিহাসিক গোড়-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রায় অর্ধেক জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই ঈদগাহ মিনারটির পাদদেশে গত দুটি বছরে ঈদের ৪টি নামাজ আদায় হয়েছে।