এরশাদের দাফন নিয়ে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক!

0
120

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ (এইচএম) এরশাদ। শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায়  সাবেক এই সেনাপ্রধানকে দেশের বাইরে নেয়া যাচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (৩ জুলাই) বিকেলে বনানীর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন জাপার ৩৮ জন প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যরা। এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদেরের সভাপতিত্বে  যৌথসভায় তার কবরস্থান, জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে ভালো চিকিৎসক আনা যায় কিনা তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়।

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় এরশাদের সম্ভাব্য কবরস্থান নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথায় দাফন করা হবে, কে দাফনের খরচ যোগাবে ইত্যাদি বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা করেছেন।

রুদ্ধদ্বার এই সভায় শুরুতেই জিএম কাদের এরশাদের কথা বলতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।

প্রেসিডিয়ামের একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে পার্টির প্রেসিডিয়াম কাজী মামুনুর রশিদ এরশাদের কবরস্থানের জায়গা কেনার জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় উপস্থিত অধিকাংশ নেতা পাবলিক প্লেসে জায়গা কিনে সেখানে এরশাদের কবর রাখার পক্ষে মত দেন। যদিও কয়েকজন প্রেসিডিয়াম দাবি করেন, এরশাদ সেনানিবাস অথবা আসাদ গেটের বিপরীতে সংসদ প্রাঙ্গণে তার কবরের কথা বলেছেন।

একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও সফিকুল ইসলাম সেন্টু মোহাম্মদপুরের আদাবরে জায়গা কিনে কবর দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আদাবরে জায়গা না পাওয়া গেলে সাভারে আমার নিজস্ব জায়গা থেকে দুই বিঘা জমি এরশাদের কবরস্থানের জন্য লিখে দেবো।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘স্যারের শারীরিক সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর কোথায় জায়গা হবে, কোথায় জানাজা হবে— এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি একটি বিশেষ কমিটি করবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তবে এস কথা এড়িয়ে গেছেন কাজী ফিরোজ। তিনি বলেছেন, ‘গোরস্থান নিয়ে তো এখন আলোচনা করা যায় না। আমরা আশা করি, স্যার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। এসব আলোচনা তো অবান্তর। আমাদের মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে স্যারের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সবাইকে অবহিত করা হলো। স্যারের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে বেটার। আগের চেয়ে স্ট্যাবল। আরেকটু বেটার হলে চিন্তাভাবনা করবো তাকে বিদেশে পাঠানো যায় কিনা।’’