পরিবেশগত হুমকির মুখে থাকা সুন্দরবন পরিদর্শনে আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনেস্কোর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসছে। এই পরিদর্শনে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি বিশ্ব ঐতিহ্যের পূর্বশর্তগুলো কতটুকু মেনে চলা হচ্ছে তা দেখবে ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে।

মিশনে থাকবেন ইউনেস্কোর নয়াদিল্লি অফিসের (প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফর ন্যাচারাল সায়েন্স) মি. গাই ব্রুক, ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সেন্টারের মিজ অ্যাকান নাকামুরা, আইইউসিএনের এলিনা অসিপভা এবং এন্ড্রো ওয়াইট।

চার সদস্যের এই যৌথ মিশনটি সুন্দরবন পরিদর্শনের পাশাপাশি এর আশপাশে অবস্থিত শিল্প প্রকল্প বিশেষ করে রামপাল, তালতলী এবং কলাপাড়ায় নির্মিতব্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব ছাড়াও পশুর বা অন্যান্য নদী খননের ফলে প্রতিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়বে তা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করবে বলে মিশনের টার্মস অব রেফারেন্সে বলা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “৯ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের আসার কথা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কয় তারিখে আসছে তা বলা যাচ্ছে না। কখন আসবে, কী শিডিউল এখনো জানায়নি এভাবে।”

এর আগে ২০১৫ সালে ইউনেসকো থেকে আরেকটি রিয়েক্টিভ মনিটরিং মিশন বাংলাদেশে এসেছিল। ওই মিশন থেকে দেওয়া কারিগরি প্রতিবেদনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের পাশ থেকে না সরালে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান বাতিলের সুপারিশ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

২০১৮ সালের জুনে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া তথ্য–উপাত্তের ভিত্তিতে ইউনেসকো তাদের সিদ্ধান্ত কিছুটা শিথিল করে। তারা সুন্দরবনের ব্যাপারে আরেকটি রিয়েক্টিভ মনিটরিং মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।