বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু

0
252
Mujib Year countdown
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হবার কয়েক সপ্তাহ পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ রাজকীয় এয়ার ফোর্সের একটি বিমানে করে লন্ডন থেকে নয়াদিল্লী হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে তেজগাঁওয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন।

এই দিনটিকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উপলক্ষে বছরব্যাপী মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য আজ ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেছেন।

তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমান বন্দরে আয়োজিত এক বণার্ঢ্য অনুষ্ঠানে মুহূর্তটিকে বঙ্গবন্ধু’র ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসাবে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ক্ষণগণনার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তাঁর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম পা রাখেন এই স্থানেই।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা ও নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে মযার্দার আসনে অধিষ্ঠিত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের হাতে বিজয়ের মশাল তুলে দিয়েছেন, আমরা এখন এই বিজয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন সেদিন বাজানো সন্ধ্যা মুখার্জির গান -‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়, তুমি আর ঘরে ঘরে এত খুশি তাই,’ গানটি অনুষ্ঠানে মাইকে বাজানো হয় ।

পাশাপাশি জনতার মধ্য থেকে জাতীয় পতাকা নেড়ে প্রতীকী বিমানকে স্বাগত জানানো হয়।

এই আয়োজনে প্রতীকী বিমান অবতরণ ছাড়াও রয়েছে আলোক প্রক্ষেপণে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব তুলে ধরা, ২১ বার তোপধ্বনি ও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর চৌকশ দলের গার্ড অব অনার প্রদান। ১৯৭২ সালে যেভাবে এদেশের সংগ্রামী জনতা বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নিয়েছিল, প্রতীকীভাবে সেই ক্ষণটিও ফুটিয়ে তোলা হয়, ওড়ানো হয় এক হাজার লাল-সবুজ বেলুন এবং অবমুক্ত করা হয় একশ’টি সাদা পায়রা।

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর (১৯৭১) বিজয় লাভের পর থেকে জাতি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছিল। তিনি আরো স্মরণ করেন যে, সেদিন তাঁর মাতা, ছোট বোন এবং তিনি নিজে তাঁদের বাসায় বসে ঐতিহাসিক মুহূর্তটির ধারাবিবরণী রেডিওতে শুনছিলেন। কারণ, তারা তাঁর ছোট পুত্র জয় এবং ছোট ভাই রাসেলকে রেখে কোথাও যেতে পারছিলেন না।

সেদিন পকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী ছিলেন ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল হোসেন ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় ২,০০০ অতিথি এবং ১০,০০০ দর্শকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ জানুয়ারি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। যেদিন আমরা ফিরে পেলাম সেই মহান নেতাকে যিনি বাংলার দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য সারাটা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

তিনি ৭২’র ১০ জানুয়ারির স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল এখানে। স্বজন হারা বেদনার্র্ত আহত-নির্যাতিত মানুষ তাঁদের মহান নেতাকে ফিরে পেয়ে তাঁদের জীবনে যেন পূর্ণতা পেয়েছিলেন। হারাবার বেদনা যেন তাঁরা ভুলতে চেয়েছিলেন তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরে পাওয়ার মধ্যদিয়ে।’

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর আগ পর্যন্ত এই ক্ষণগণনা চলবে।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও জনপরিসরে ক্ষণগণনা শুরু হয়। দেশের ৫৩ জেলা, দুটি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে।