শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যান্টি-র‌্যাগিং স্কোয়াড গঠনের নির্দেশ

0
34

দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সে লক্ষ্যে অ্যান্টি-র‌্যাগিং স্কোয়াড ও কমিটি গঠনেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানির পর আজ ১২ জানুয়ারি, রবিবার এ আদেশ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

র‌্যাগিং থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েও এসময় রুল জারি করেন আদালত।

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি, বুধবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং বন্ধ ও র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জনস্বার্থে এ রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

গত বছরের ৯ অক্টোবর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং বন্ধ ও র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এ আইনজীবী।
ওই নোটিশে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সহায়তায় জন্য অ্যান্টি-র‌্যাগিং কমিটি গঠন ও মনিটরিংয়ের জন্য অ্যান্টি-র‌্যাগিং স্কোয়াড গঠনে সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

আইনজীবী ইশরাত হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা তরুণরা সিনিয়রদের র‌্যাগিংয়ের শিকার হন। সিনিয়ররা নতুনদের কান ধরে ওঠবস করানো, রড দিয়ে পেটানো, পানিতে চুবানো, উঁচু ভবন থেকে লাফ দেয়ানো, সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকা দেওয়া, গাছে ওঠানো, ভবনের কার্নিশ দিয়ে হাঁটানো, এমনকী দিগম্বর পর্যন্ত করে।’

এছাড়াও গালিগালাজ করা, কুৎসা রটানো, নজরদারি করা ও নিয়মিত খবরদারির মতো নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন করা হয় উল্লেখ করে তিনি র‌্যাগিংয়ের নামে অপসংস্কৃতি বন্ধ করার জোর দাবি জানান।