প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরাতেন। ভল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকত। তিনি সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে টাকা সরাতেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়।

আইপিএল খেলায় অনলাইনে বাজি ধরতেই ব্যাংকের ভল্ট থেকে তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী শাখার কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম ওরফে ফয়সাল।

শামসুল ইসলাম ফয়সাল নামে ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার পদের এই কর্মকর্তা বুধবার রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

মহানগর হাকিম মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী বিকালে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেন বলে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানিয়েছেন।

রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রথমদিকে ফয়সাল দাবি করেছিলেন আত্মসাৎকৃত তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা দুই বন্ধুকে ধার দিয়েছেন। বাকি এক কোটি টাকা আবাসন প্রকল্পে জমি কিনতে দিয়েছেন।

কিন্তু রিমান্ডে থাকাকালীন তিনি স্বীকার করেছেন সব টাকা দিয়ে আইপিএল খেলায় অনলাইনে বাজি ধরেছেন। অনলাইন জুয়ার একটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপসের মাধ্যমে এসব অর্থ দিয়ে বাজি ধরেন ফয়সাল। সেই সঙ্গে টাকাগুলো বাজিতে হেরেছেন তিনি। ব্যাংকের ভল্টের পেছনের সারি থেকে দুই বছর ধরে এসব টাকা সরিয়ে নেন ফয়সাল।

শাখা ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা খান বলেন, ২৩ জানুয়ারি ভল্টের সমস্ত টাকা গণনার পর ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এ সময় শামসুল ইসলাম টাকা সরানোর কথা স্বীকারও করেন। বিষয়টি তাঁরা ওই রাতেই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। পরে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ীই থানায় মামলা করেন এবং রাতেই তাঁকে পুলিশে হস্তান্তর করেন।