ভারতে ৩ ছাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, আতঙ্কে বাংলাদেশ

0
82

চীন থেকে এবার ভারতেও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। দেশটির কেরালা রাজ্যে এরই মধ্যে তিনজনের শরীরে মারণ ভাইরাসটির অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই ৩ জনই চীনে পড়াশুনো করতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তারা প্রত্যেকেই গত মাসে চীনের উহান থেকে ফেরত এসেছেন।

এদিকে দুইদিন আগেই চীন থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৩১৬ জন শিক্ষার্থীকে। এখন পর্যন্ত তাদের কেউ ভাইরাস পজিটিভ না হলেও, আতঙ্ক বিরাজ করছে দেশে।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, `মারাত্মক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তৃতীয় রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে কেরালায়। ওই রোগী চীনের উহান থেকে এ দেশে এসেছেন বলে জানা গেছে। রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখে তার পরীক্ষা করা হয়, সেই পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মিলেছে এবং সেজন্য আপাতত তাকে হাসপাতালের একটি আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা করাহচ্ছে। রোগীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাকে চিকিৎসকের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।`

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় গত সপ্তাহেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুরো বিশ্বে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। চীনে ক্রমশই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, এখনও পর্যন্ত সেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৭ হাজার।

এদিকে, ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাসের কারণে দুদিন আগেই চীনের উহান নগরীতে আটকে পড়া ৩১৬ জন বাংলাদেশি দেশে পৌঁছেছেন। তাদের সবাইকে এয়ারপোর্টের বিপরীত দিকে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পে আলাদা করে রাখা হয়েছে। ১৪ দিনের জন্য সেখানে তারা পর্যবেক্ষণে থাকবে। হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন রাখা অবস্থায় যদি কেউ অসুস্থ হয় তাহলে চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা প্রদানের জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী সর্বদা মোতায়েন থাকবে।

কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা সোমবার সকালে বলেন, `কাসারগোদের কাঞ্জানগড় জেলা হাসপাতালে ওই রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।` কাসারগোদ শহরটি উত্তর কেরালায় অবস্থিত। এখনও পর্যন্ত সে রাজ্যে ৩ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। প্রথম ঘটনাটির সন্ধান পাওয়া গেছে ৩০ জানুয়ারি মধ্য কেরলের ত্রিশূরে। এরপর রবিবার কেন্দ্রীয় সরকার আলাপুঝায় ওই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত দ্বিতীয় রোগীর কথা প্রকাশ্যে আনে।