চবি শিক্ষার্থীদের শাটল ট্রেনে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত

0
72

দুপুর ঘনিয়ে বিকাল হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি) ষ্টেশনে এসে পৌছেঁচে বিকাল ৪টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী শাটল ট্রেন। ট্রেন আসার মধ্যেই চলন্ত অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ট্রেনে উঠতে শুরু করেছে। তার কিছুক্ষণ পর দেখা গেল ট্রেন ভরে গেলে শিক্ষার্থীরা কেউ বা দরজায় দাঁড়িয়ে, বসে যাচ্ছে। ট্রেন ছাড়ার আগ মূহুর্তে দেখা যায় কেউ দুই বগির মাঝ দিয়ে, কেউবা সামনের বগি থেকে ঝুঁকির নিয়ে ছাঁদে উঠছে, সাথে সঙ্গীদের উঠতে সহযোগিতা করছে। এ যেন নিত্যদিনের গল্প।

এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে বেশ কয়েকবার। এরমধ্যে গতবছরের সেপ্টেম্বরে ট্রেনের দরজায় বসে পায়ের আঙ্গুল চাপা পড়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তারের। এরপর গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) শাটলের ছাঁদ থেকে পড়ে যায় বোটানির ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। এভাবেই ঝুঁকির মধ্য দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীরা।

এর প্রধান কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা দায়ী করছে প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলাতে। তাদের দাবী দীর্ঘদিন ধরেই আমরা প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়ে আসছিলাম শাটলের বগি বৃদ্ধি করতে। কিন্তু প্রশাসন ভ্রূক্ষেপ করছেনা এতে। এজন্য বাধ্য হয়েই আমাদের দরজায় বসা, ছাঁদে উঠতে হয়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী গাজী বাঈজীদ বলেন, শিক্ষার্থীদের তুলনায় বগি কম থাকায় বগির ভিতরে চাপাচাপি হয় যাতে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আবার অনেকে বমি, কেউ আবার মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়। আর আমাদের যাদের এজমা আছে তাদের জন্য সমস্যাটা আরো প্রকট।

এবিষয়ে আইইআর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী আহমেদ জুনায়েদ জানান, শিক্ষার্থীদের তুলনায় শাটলের সীট সঙ্কুলান না হওয়ায় চাপাচাপি করে,ভিতরের ফ্যান নষ্ট থাকায় অসহনীয় গরম হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ছাঁদেই যাতায়াত করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসানের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাটলের ছাঁদে, বা দরজায় বসার ব্যাপারে আমরা বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি।শিক্ষার্থীদের নিষেধ করেছি।তারপরেও শিক্ষার্থীরা আমাদের কথা শুনছেনা।

এসময় শাটলের বগি বৃদ্ধির ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, বিষয়টি যেহেতু রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পর্কিত। আমরা বেশ কয়েকবার চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু তারা ব্যবস্থা নেয়নি। আর এটি একটি দীর্ঘ সময়েরও ব্যাপার।

উল্লেখ্য,শাটল ট্রেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র যানবাহন।এতে দৈনিক প্রায় দশ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে।এই বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ৭বগি বিশিষ্ট ২টি শাটল ট্রেন যা দিনে ৭বার আসা যাওয়া এবং ৪ বগি ১টি ডেমু ২বার আসা যাওয়া করে যা এই বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ধারণ প্রয়োজনীয়তা মেঠাতে পারেনা।