রাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন, অসুস্থ ৪২

0
33

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নাম ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ৫৩ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। এতে করে বিকেল পর্যন্ত ৪২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এর মধ্যে এনামুল হক নামে এক শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। এই শিক্ষার্থী ছাড়াও এই মুহূর্তে রামেকে ভর্তি রয়েছে ৮ শিক্ষার্থী। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।

গত বুধবার সকাল ১০ টা থেকে স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেছে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য গতকাল ঢাকায় মিটিং স্থগিত করে ক্যাম্পাসে আসেন। এদিন দুপুর একটা নাগাদ উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান অনশনস্থলে যান। এসময় তিনি ২ মার্চ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জুরুরী সভা ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে অনশন স্থগিতের অনুরোধ জানান।

তবে এ আন্দোলনে বিভাগের শিক্ষকদের সমর্থন নেই বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, উপাচার্য ও সভাপতির লিখিত দেওয়া ছাড়া তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে তারা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করবেন না।

এ সম্পর্কে ছাত্র উপদেষ্টা ড. লায়লা আরজুমান বানু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হচ্ছেন উপাচার্য স্যার। তাদের উচিত ছিল উপাচার্য স্যারে অাহ্বানকে সারা দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা। শিক্ষার্থী উপাচার্য স্যারের কাছে লিখিত চেয়েছেন। আমি মনে করি স্যারের কাছে লিখিত চাওয়াটা অশালীনতা। যেখানে উপাচার্য স্যার ঢাকা থেকে জরুরি মিটিং বাদ দিয়ে তাদের সাথে দেখা করতে এসেছে। তাদের অবশ্যই উচিত ছিল স্যারের উপর আস্থা রাখা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, সিনেট ভবনে আগামী ২ মার্চ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসন এই সম্পর্কে আলোচনা সভার করবেন। আপাতত শিক্ষার্থীদের উচিত ভিসি স্যারের উপর আস্থা রাখা।

শিক্ষার্থীরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তাদের উচিত আন্দোলন স্থগিত করা। এটা কোন সল্প সময়ের বিষয় না।এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাদের ধৈর্য ধরা উচিত বলে মনে করছেন প্রক্টর।

এর আগে পিএসসি’তে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এরপর বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে আমরণ অনশন করছেন শিক্ষার্থীরা।