রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগানে নিষিদ্ধ পপি ফুলের চাষ!

0
134

আফিম তৈরির কাঁচামাল হওয়ায় সব জাতের পপি ফুলের চাষ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বাগানে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে পপির চাষ করা হচ্ছে।

তবে বাগান মালিদের দাবি, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে পপির চাষ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১১টি আবাসিক হলের পাঁচটিতেই বিভিন্ন ফুল গাছের সঙ্গে এগুলোও রয়েছে। অন্য গাছের আড়ালে থাকায় ভালোভাবে লক্ষ্য না করলে বোঝার উপায় নেই। এরই মধ্যে অধিকাংশ পপি গাছে লাল-সাদা রঙের ফুল এসেছে। আবার কিছু গাছে ফলও ধরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকের মাঝের বাগানে ৩০-৪০টি, মাদার বখ্‌শ হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্লকের মাঝের বাগানে ৮-১০টি, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের বাগানে শ খানেক, সৈয়দ আমীর আলী হলের বাগানে ২০টি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভেতরের বাগানে ছয়-সাতটি পপির গাছ রয়েছে। এ ছাড়া শাহ মখদুম হল ও শহীদ শামসুজ্জোহা হলের বাগানে একটি করে গাঁজার গাছও পাওয়া গেছে।

হলগুলোতে দায়িত্বরত মালিদের দাবি, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বাগানে অনেক আগে পপি গাছ লাগানো হয়েছিল। পরে সেগুলো তুলে ফেলা হয়। ওই বীজ থেকেই বর্তমান গাছগুলো হয়েছে। নতুন করে গাছ লাগানো হয়নি।

তাদের দাবি, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নয় বরং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পপি রোপণ করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান হলের মালি মো. সানাউল্লাহ বলেন, বাগানে বিভিন্ন জাতের ফুলগাছ রয়েছে। এ বছরও অনেক ফুলগাছ নতুন করে লাগানো হয়েছে। পপি গাছ লাগানো হয়নি। এসব গাছ অনেক আগে লাগানো হয়েছিল। হল প্রশাসনের নির্দেশে সে সময় পপি গাছগুলো তুলে ফেলা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক লুৎফর রহমান বলেন, দুই প্রজাতির পপি গাছ রয়েছে। এর একটি থেকে রস সংগ্রহ করা যায়, আরেকটি থেকে যায় না। তবে উভয় ধরনের পপি চাষই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিষয়টি জানা ছিল না। শোনার পরই হলে এসে খোঁজ নিয়েছি; গাছ পাইনি। মালিদের অসচেতনার কারণে এমনটি হয়েছে। পরবর্তীতে লক্ষ্য রাখা হবে।’

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ ড. রওশন জাহিদ বলেন, ‘আমরা ফুলটি বহুবার পর্যবেক্ষণ করেছি তবে তা পপি, আমি জানতাম না। তবে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে হলের পপি ফুলগাছগুলো নির্মূল করেন প্রাধাক্ষ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না এবং বিষয়টি অজানা থাকায় আমি মন্তব্য করতে পারছি না। ঘটনাটি সত্য হয়ে থাকলে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।’