যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্তের পর দেশটির সঙ্গে সীমান্ত ও ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে ফ্রান্সসহ অন্তত ৩০টি দেশ। ফলে কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্য। ভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে করণীয় ঠিক করতে গতকাল সোমবার জরুরি বৈঠকে করেছে জনসন সরকার। এদিকে গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনার টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব ও ওমান সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এক সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও সমুদ্রপথেও সৌদি আরবে প্রবেশ এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালিসহ বেশ কিছু দেশে করোনার নতুন ওই স্ট্রেইন শনাক্ত হওয়ায় রিয়াদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো এরই মধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য হবে না। ওই ফ্লাইটগুলো সৌদি আরব ছেড়ে যেতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।

গত শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও বিজ্ঞানীরা দেশটিতে করোনাভাইরাসের একটি নতুন রূপ শনাক্তের কথা ঘোষণা করে এ ধরনটি ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক বলে জানান।

এরপরই গোটা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এরই মধ্যে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ইতালিসহ ইউরোপের একাধিক দেশ।

তাছাড়া, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি কেবল যুক্তরাজ্যেই নয় আরও কয়েকটি দেশেও দেখা গেছে। এ মাসের শুরুতে নেদারল্যান্ডসে পরীক্ষায় ঠিক একই ধরনের ভাইরাসের স্ট্রেইন পাওয়া গেছে।

অস্ট্রেলিয়াও সোমবার করোনাভাইরাসের অতি-সংক্রামক নতুন ধরনের প্রাদুর্ভাবের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া দুইজনের দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ইতালিতেও করোনাভাইরাসের একইরকম নতুন ধরন দেখা গেছে বলে শোনা যাচ্ছে।