বিষক্রিয়ায় রাজস্থানে ১ সপ্তাহে ১০ হাজার পাখির মৃত্যু

0
132
dead-birds

ভারতের রাজস্থান রাজ্যে এক সপ্তাহে অন্তত পক্ষে ১০ হাজার পরিযায়ী পাখি মারা গেছে। গত ১১ নভেম্বর, সোমবার থেকে গতকাল ১৭ নভেম্বর, রবিবার পর্যন্ত পাখির মৃত্যুর পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বিষাক্ত কিছু খাওয়ার ফলেই ঝাঁকে ঝাঁকে এসব পরিযায়ী পাখির মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে বলে অনুমান করছে ভারতের বনবিভাগ।

তারা জানিয়েছে, এসব পরিযায়ী পাখি সম্ভবত ‘এভিয়ান বোটুলিজম’ নামে এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েই মারা যাচ্ছে। সাধারণত বিষাক্ত কিছু খেলেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

অন্য পাখিদের মধ্যে যাতে এই জটিল মারণরোগ ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য তৎপর হয়েছে দেশটির বনবিভাগ। রাজ্যের সম্বর লেকের চারদিক পরিদর্শন করছে ৭০ সদস্যের একটি বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। অ্যানিমাল হাসবেন্ডারি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকেও কয়েকটি দল এই পরিযায়ী পাখিদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখছে। তদন্তের স্বার্থে সম্বর লেকসংলগ্ন এলাকা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনুসন্ধান করছেন তারা

প্রাথমিকভাবে ‘এভিয়ান ফ্লু’কেই পরিয়ায়ী পাখিদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছিলো। কিন্তু ভোপালের একটি ল্যাবরেটরি থেকে আসা রিপোর্টে সে বিষয়টি উড়িয়ে দেয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত বলেছেন, ‘সম্বর লেকের কাছাকাছি থাকা পাখি এবং অন্যান্য জীবজন্তু ও গাছপালাকে রক্ষা করা এখন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।’

পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া মড়কের সঠিক কারণ খুঁজে না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে হতবাত স্থানীয় জনসাধারণও। সকল কিছুতেই পরিবেশ দূষণের দিকে আঙ্গুল তুলছেন তারা। সম্বর লেকের নোনা পানি দূষিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। তাদের ধারণা, আর সেই দূষিত পানি পানেই পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে মারা যাচ্ছে।

এই ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকেই দোষারোপ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, যখন পাখিগুলো মরা শুরু হয় এর প্রথম দু’দিন বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি রাজ্য প্রশাসন। অনেক দেরিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পাঠানো হয়। তবে তাদের উপস্থিতিতেই শুক্রবার পাখির মৃত্যুসংখ্যা একলাফে অনেক বেড়ে যায়।

রাজ্যবাসীর অভিযোগ, সরকারি হিসাবে মৃত পাখির যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, আসলে সংখ্যাটা তার চেয়ে বেশি।