খবরটা প্রথম বেরিয়েছিল চীনের সরকারি সংবাদ মাধ্যমে। ‘সাগরে জাল ফেলে বিদেশি গুপ্তচর ড্রোন ধরার পর জেলেদের পুরস্কার দিলো চীন’। এই শিরোনামে খবরটি দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। তবে ব্যাপারটা আসলে ততটা সরল নয়। এই পুরস্কার যে এক-দুজন জেলে পেয়েছেন তা-ও নয়। মোট ১১ জন জেলে। তার মধ্যে একজন আবার নারী। সাগর থেকে সব মিলিয়ে ৭টি ‘গুপ্তচর সাবমেরিন ড্রোন’ ধরে এই পুরস্কার পেয়েছেন।

তা ছাড়া এ ঘটনা খুব নতুনও নয়। ২০১৮ সালে এবং তার আগেও জিয়াংসু প্রদেশের জেলেরা স্পাই সাবমেরিন ড্রোন ধরেছেন। পুরস্কারের অংকটাও কম নয়, ৫ লক্ষ ইউয়ান যা ৭২ হাজার ডলারের সমান।

আমেরিকার বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের যন্ত্র স্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব যন্ত্রের মাধ্যমে নজরদারী চালাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী।

পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের উপকুল ১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর অন্য দিকে আছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান। এখানে প্রবল উপস্থিতি রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও।

এগুলো আকারে খুব বেশি বড় নয়। আকাশে যেরকম সামরিক আক্রমণ বা নজরদারির জন্য চালকবিহীন ড্রোন আজকাল ব্যবহৃত হচ্ছে, সমুদ্রের পানিতে ঠিক একইভাবে কাজ করে এসব চালকবিহীন ছোট ছোট স্পাই সাবমেরিন ড্রোন।

এসব তথ্য সাবমেরিনারদের ভবিষ্যতের কাজে কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি সাগরতলের অবস্থা সম্পর্কে আরও বেশি জানতে সাহায্য করবে। সেকারণেই মার্কিন নৌবাহিনী এসব কাজে বেশি বিনিয়োগ করে থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।