‘দেশের স্বার্থে এখন চীনে অবস্থান করাই ভালো’

0
50

বাংলাদেশিসহ বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিকরাই চীনের উহান শহরে আটকা পড়েছেন। কারণ সেখানে বাইরে থেকে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি ওই শহর থেকে কাউকে বের হতেও দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে চীনে অধ্যয়নরত বর্ণ সিদ্দিকী নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মঙ্গলবার তার ফেসবুকে লাইভে এসে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন। জানা যা, তিনি চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। বসবাস করছেন ইউনান প্রদেশের কুনমিং সিটিতে।

ফেসবুক লাইভে বর্ণ সিদ্দিকী জানান, ‘এই মুর্হূতে দেশের স্বার্থে আমি আমার মাতৃভূমিতে যাব না। চীনে আমরা শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও হাজার হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছি। আমরা জানি না, এই ভাইরাস কারও কাছে চলে এসেছে।

এ ভাইরাসটার একটা অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, এটি শরীরে আসার পর থেকে ১৪ দিন অবস্থান করবে এবং কোনো লক্ষণও প্রকাশ করবে না। এখন আমরা যারা এখানে আছি, তারা যদি দেশে ফিরে যাই তাহলে নিজের অজান্তেই কারও না কারও সাথে এ ভাইরাস দেশে চলে যেতে পারে। তাই দেশের স্বার্থে এখন চীনে অবস্থান করাটাই ভালো।

তিনি আরও জানান, ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে গোটা চীনেই এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু এ প্রসঙ্গে এখনও গণমাধ্যমে তেমন বিশেষ কোন খবর আসছে না। আমি আমার চাইনিজ বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি, যা বহির্বিশ্বের গণমাধ্যমে তেমন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে না। চীন সরকার চাচ্ছে না যে এই ভাইরাসটার কারণে অন্যরা উদগ্রীব হোয়ে উঠুক।’

বর্ণ সিদ্দিকী বলেন, ‘এরই মধ্যে এই ভাইরাসের প্রভাব চীনের অর্থনীতির উপরেও পড়েছে। আমি অনেকগুলো বাজারও ঘুরেছি, আগে এসব বাজারে শাক-সবজির কোনো ঘাটতি না থাকলেও এখন কোনো কাঁচা তরকারি আর পাওয়া যাচ্ছে না, যা পেয়েছি তা সবই শুষ্ক খাবার।’

গতকাল চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ঢাকাকে অবগত করা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফিরতে লাগবে আরও ১৪ দিন সময়।