Image Source: ICC/Twitter

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় ডুবেছিল পাকিস্তান। সেই দলটিই এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিপক্ষে ১৪ রানে জিতেছে। জবাবে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৩৪ রান করে ইংল্যান্ড।

দলীয় ১১১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজের মারমুখী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরি করে দলের স্কোর দু’শর কাছাকাছি নিয়ে যান। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬৬ বলে ৬৩ রান করে দলীয় ১৯৯ রানের মাথায় বাবর আউট হন।

এরপর সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৬২ বলে ৮৪ রান করে পেসার মার্ক উডের শিকার হন হাফিজ।

শেষদিকে দলীয় ২৭৯ রানে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ৫টি চারে ৪৪ বলে ৫৫ করে বিদায় নেওয়ার পর হাসান আলি ও শাদাব খান ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন । শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৮ রানের বড় সংগ্রহ করে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।

ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস ও মঈন ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট শিকার করেছেন উড। ৩৪৯ রানের বিশাল রানের টার্গেটে খেলতে নেমে পাকিস্তানের লেগ-স্পিনার শাদাব খানের বলে তৃতীয় ওভারেই ওপেনার জেসন রয় ৮ রান তুলে ফিরে যান।

এরপর নবম ওভারে ওপেনার জনি বেয়ারস্টো (৩২) । বেয়ারস্টোর বিদায়ের পর অধিনায়ক মরগান মাত্র ৯ রান করে হাফিজের বলে আউট হন ।

তিন নম্বরে নামা জো রুট। কিন্তু এই জুটি ৪৮ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি। ৩১ বলে ৩২ রান করা বেয়ারস্টোকে বিদায় দেন পাকিস্তানের পেসার ওয়াহাব রিয়াজ।

৪ উইকেটে দলীয় ১১৮ রানে স্টোকসের বিদায়ের পর রুট-বাটলারের
মারমুখী বেটিং ফলে ৯৭ বলে ১০৭ করে থামেন রুট। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৫তম ও এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি।

রুট ফিরে যাবার পর মঈণকে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে দিতে গিয়ে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি করেন তিনি। কিন্তু সেঞ্চুরির পর মোহাম্মদ আমির হাতে ১০৩ রান করে শেষ হয় বাটলারের দুর্দান্ত ইনিংসটি।

বাটলার প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের জয়ের আশা নিভে যায় । তখন ৩৩ বলে জয়ের জন্য ৬১ রান দরকার ছিলো ইংল্যান্ডের। মঈন ১৯ ও ওকস ২১ রান করে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৩৩৪ রান করে ম্যাচ হারে ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের ওয়াহাব ৩টি, শাদাব-আমির ২টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান:  ৫০ ওভারে ৩৪৮/৮ (ইমাম ৪৪, ফখর ৩৬, বাবর ৬৩, হাফিজ ৮৪, সরফরাজ ৫৫, আসিফ ১৪, মালিক ৮, ওয়াহাব ৪, হাসান ১০*, শাদাব ১০*; ওকস ৮-১-৭১-৩, আর্চার ১০-০-৭৯-০, মইন ১০-০-৫০-৩, উড ১০-০-৫৩-২, স্টোকস ৭-০-৪৩-০, রশিদ ৫-০-৪৩-০)

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৩৪/৯ (রয় ৮, বেয়ারস্টো ৩২, রুট ১০৭, মর্গ্যান ৯, স্টোকস ১৩, বাটলার ১০৩, মইন ১৯, ওকস ২১, আর্চার ১, রশিদ ৩*, উড ১০*; শাদাব ১০-০-৬৩-২, আমির ১০-০-৬৭-২, ওয়াহাব ১০-০-৮২-৩, হাসান ১০-০-৬৬-০, হাফিজ ৭-০-৪৩-১, মালিক ৩-০-১০-১)

ফল: পাকিস্তান ১৪ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ হাফিজ