Image credit: @englandcricket/ Twitter

অনেকটা ‘এলেন, খেললেন, জয় করলেন’-এর মতো ব্যাপার ছিল। হঠাৎ ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন বব উইলিস। পরবর্তীতে আগুনে বোলিংয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে নিয়েছিলেন অবসর। এবার জীবন থেকে ‘চিরঅবসরে’ চলে গেলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। ক্যান্সারের কাছে হার মেনে ৭০ বছর বয়সে ওপারের বাসিন্দা হলেন উইলিস।

১৯৭০-৭১ মৌসুমের অ্যাশেজ শুরুর একেবারে আগমুহূর্তে অ্যালান ওয়ার্ডের চোট খুলে দেয় ২১ বছর বয়সী উইলিসের জাতীয় দলের দরজা। হঠাৎ পাওয়া সুযোগটা চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংলিশদের ২-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

১৯৭১ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত উইলিস খেলেন ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। খেলা ছাড়ার সময় তার নামের পাশে ছিল ৯০ টেস্টে ৩২৫ উইকেট। তখন তিনি ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম টেস্ট বোলার। তার অবসরের দীর্ঘদিন পরও তাকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন ইংল্যান্ডের কেবল তিন বোলার, ইয়ান বোথাম (৩৮৩), স্টুয়ার্ট ব্রড (৪৭১) ও জিমি অ্যান্ডারসন (৫৭৫)।

উইলিস ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা নিয়ে থাকবেন চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রবল প্রতাপে খেলে যাওয়ার বিস্ময়কর সামর্থ্যের কারণেও। ১৯৭৫ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে অস্ত্রোপচার হয়েছিল তার দুই হাঁটুতেই। একজন ফাস্ট বোলারের জন্য সেই ধাক্কা সামলে শীর্ষ পর্যায়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

কিন্তু উইলিস সম্ভব করেছিলেন প্রায় অসম্ভবকে। প্রচণ্ড ব্যথা সয়ে খেলেছেন দিনের পর দিন। পায়ের শক্তি ফিরে পেতে একটা পর্যায়ে প্রতিদিন দৌড়েছেন ৫ মাইল। কিন্তু হার মানেননি। জোড়া অস্ত্রোপচারের পরও সব সংশয় উড়িয়ে আরও ৯ বছর খেলে গেছেন দাপটে। নিজেকে তুলে নেন সর্বকালের সেরাদের উচ্চতায়।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৩০৮ ম্যাচে তার উইকেট ৮৯৯টি। কাউন্টি ক্রিকেটে প্রথম দুই মৌসুম সারেতে খেলার পর ওয়ারউইকশায়ারে কাটান ১২ বছর। ওয়ারউইকশায়ারের হয়েই নেন ৩৫৩ উইকেট।