সাগরে ঝড়ো হাওয়ার কারণে আগামী তিন দিন প্রায় সারা দেশে থেমে থেমে ঝড়-বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিরও আশঙ্কা আছে। এদিকে উপকূল অঞ্চল ও চরগুলোতে এক থেকে দুই ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসও হতে পারে। এসব কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য থাকার কারণে সাগর উত্তাল। সাগরে মাছ ধরাসহ এ ধরনের কাজ বিঘ্নিত হবে বলেই তিন নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিমা লঘুচাপ এবং বায়ু চাপের যে বিন্যাস, তাতে দেখা যায় যে বাংলাদেশসহ আশপাশের এলাকায় জলীয় বাষ্পের জোগান হচ্ছে। এই জোগান থেকেই মঙ্গলবার কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি হয়েছে, আজও হচ্ছে।

রাজধানীর উপর দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত ও বুধবার সকালে ঘণ্টায় ৭৮ থেকে ৮৩ কিলোমিটার বেগে বয়ে গেছে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের তাণ্ডবে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় উপড়ে গেছে গাছপালা। আবহাওয়া অফিস রাজধানীতে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যার মধ্যে সকালে মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, জুনের ৪ তারিখের পর বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের স্থলভাগে মৌসুমি বায়ু প্রবেশের কথা রয়েছে। বর্ষা ঋতু এবার সবার আগে দক্ষিণ ভারতে প্রবেশ করবে। এরপর বেঙ্গল বেসিনেও ধীরে ধীরে এর প্রভাব বাড়বে।