prayer
Photo Credit: Twitter

নামাজ ইসলাম ধর্মের প্রধান ইবাদত। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নামাযের নির্দিষ্ট সময়) নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক বা ফরয্‌। নামায ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। শাহাদাহ্‌ বা বিশ্বাসের পর নামাযই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই সকলের জন্য সঠিক ভাবে নামাজ আদায় করা আবশ্যক।

জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাআত ও তাসবিহ-

ফজরের নামাজ : প্রথমে দুই রাকাআত সুন্নাত এবং পরে দুই রাকাআত ফরজ।

আরও পড়ুন:

তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম

গুনাহ মাফের দোয়া, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া

সাইয়িদুল ইস্তিগফার, ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া

যোহরের নামাজ : প্রথমে চার রাকাআত সুন্নাত। তারপর চার রাকাআত ফরজ এবং এরপর দুই রাকাআত সুন্নাত। কেউ কেউ সর্বশেষ দুই রাকআত নফল নামাজও পড়ে।

আসরের নামাজ :  চার রাকাআত ফরজ। অনেকে আবার ফরজের পূর্বে চার রাকাআত সুন্নাত নামাজ পড়ে থাকেন । 

মাগরিবের নামাজ: এক নামাজে প্রথম তিন রাকাআত ফরজ। তারপর দুই রাকাআত সুন্নাত। এরপর কেউ কেউ সুন্নাতের পর দুই রাকাআত নফল পড়ে থাকে। 

এশার নামাজ: কেউ কেউ ফরজ নামাজের আগে চার রাকাআত সুন্নত নামাজ আদায় করেন। এরপর চার রাকাআত ফরজ নামাজ পড়েন। ফরজের পর দুই রাকাআত সুন্নাত। এরপর তিন রাকাআত বিতর। অনেকে বিতরের পর দুই রাকাআত নফলও নামাজ পড়ে থাকেন । 

দোয়ায়ে কুনুত ইহা বিতরের নামাজে পড়তে হয়

اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা ওয়ানুমিনু বিকা ওয়ানাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাসকুরুকা আলা নাক ফুরুকা ওয়ানাখলাউ উয়ানাত রুকু মাইয়্যাফযুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা বুদু ওয়ালাকা নুছালি্ল ওয়া নাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসয়া ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আজাবাকা ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মূলহিক।

অনুবাদ: হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করিতেছি, তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি। তোমার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করিতেছি, তোমার উপর ঈমান আনিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি তোমার গুণগান করিতেছি এবং তোমারই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। আমরা তোমাকে অস্বীকার করি না। যাহারা তোমার হুকুম অমান্য করে তাহাদের সঙ্গে আমরা সংশ্রব সংসগ্র পরিত্যাগ করি। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমারই খেদমতে হাজির হই এবং তোমার রহমতের আশা করি ও তোমার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চই তোমার আজাব অবিশ্বাসিগণ ভোগ করিবে।

বিশ্বনবী (সা.) নামাজের পর যে দোয়া গুলো পড়তেন:

(১) রাসূলুল্লাহ সাঃ প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে ৩ বার আসতাগফিরুল্লাহ্‌ বলতেন। (মুসলিম, ১২২২)

(২) তারপর “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম” – এটি পরতেন । (মুসলিম, ১২২১)

(৩) সুবহা-নাল্লা-হ (৩৩ বার) । আলহাম্দুলিল্লা-হ (৩৩ বার) । আল্লাহু-আকবার (৩৩ বার) । (লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা-লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর”) (১ বার) । এগুলো পাঠে গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেয়া হয়।)
(মুসলিম, ১২৪০)

(৪) আয়াতুল কুরসী (সূরা বাক্বারা আয়াত-২৫৫) ১ বার পড়া। ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো দূরত্ব থাকেনা।
(নাসাঈ)

১. ফজরের নামাজের তাসবিহ

বাংলায়: (হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম)- তিনি চির জীবিত ও চিরস্থায়ী।

২. জোহরের নামাজের তাসবিহ

বাংলায়: (হুয়াল আলিইয়্যাল আজীম)- তিনি শ্রেষ্ট্রতর অতি মহান।

৩. আছরের নামাজের তাসবিহ

বাংলায়: (হুয়ার রাহমা- নুর রাহীম)- তিনি কৃপাময় ও করুনা নিধান।

৪. মাগরিবের নামায পড়ে পরিবার তাসবিহ

বাংলায়: (হুয়াল গাফুরুর রাহীম)- তিনি মার্জনাকারী ও করুণাময়।

৫. এশার নামায পড়ে পরিবার তাসবিহ

বাংলায়: (হুয়াল্ লাতিফুল খাবীর)- তিনি পাক ও অতিশয় সতর্কশীল।

Related searches
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের তসবি
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আমল
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সূরা
নামাজ শিক্ষা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর কোন সূরা পড়তে হয়