স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ কে এম এনায়েত হোসেনের গাড়ি চালাতেন। র‌্যাব জানিয়েছে, মালেক ড্রাইভার নামে পরিচিত এই ব্যক্তির শতকোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, জাল টাকার কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট এবং একটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়ার ৪২ নম্বর বামনের টেক হাজী কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর তুরাগে গাড়িচালক আবদুল মালেকের রয়েছে ২৪টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট সাত তলার দুটি বিলাসবহুল বাড়ি। একই এলাকায় ১২ কাঠার প্লট। এছাড়া হাতিরপুলে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনকে জিম্মি করে চিকিৎসকদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেন। চিকিৎসকদের বদলি-পদোন্নতিতেও ছিল তার হাত। নিয়োগ, বদলি ও পদন্নোতিতে তদবিরের নামে-বেনামে আদায় করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। যার বদৌলতে অল্প দিনেই শতকোটি টাকারও বেশি অর্থ-সম্পদের মালিক এই মালেক ড্রাইভার।

শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরে ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজে সেই সংগঠনের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ওই পদের ক্ষমতাবলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালকদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। তাদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির নামেও তিনি হাতিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। ক্ষমতা দেখিয়ে অধিদফতরের বিভিন্ন পদে চাকরি দিয়েছেন ডজনখানেক নিজের আত্মীয়-স্বজনকে।