pele-died

ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি পেলে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এই ফুটবলার দেশের হয়ে ৩টি বিশ্বকাপ জয় করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত একটায় সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে কিংবদন্তি এই ফুটবলার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

তার টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়েছে: “অনুপ্রেরণা এবং ভালবাসায় সিক্ত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চির বিদায় নিলেন ফুটবলের রাজা পেলে। ভালবাসা, চিরকাল।”

গত বছর সেপ্টেম্বরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কোলন থেকে টিউমার অপসারণ করেছিলেন পেলে। এর পর থেকেই নিয়মিত হাসপাতালে যাওয়া আসার মধ্যে ছিলেন তিনবারের এই বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার। গত ২৯ নভেম্বর শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হলে তাকে পুনরায় হাসাপাতালে ভর্তি করানো হয়।

তবে, হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছিলেন যে তার কোলন ক্যান্সার “অগ্রগতি” দেখালেও তার “কিডনি এবং হৃদযন্ত্রের চিকিত্সার জন্য তাকে হাসপাতালে রাখা প্রয়োজন।

পেলের নামঃ

এডসন আরেন্তস দো নাসিমেন্তো তাঁর নাম।এই নামে কয়জনই তাকে চিনেন। ১৯৪০ সালের অক্টোবরে সাও পাওলোর দারিদ্রপীড়িত বস্তিতে তাঁর জন্ম । তার বাবা ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে খেলেছিলেন, কিন্তু অর্থের অভাবে তাকে ছেড়ে দিয়ে ক্লিনার হতে হয়েছিল। তার জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল এডসন। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে আদর করে ডিকো বলে ডাকতেন।

আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন পেলের:

আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪–২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে থেকে পেলে লিখেছেন, “আজ ফুটবল তার গল্পটা বলেছে, বরাবরের মতো রোমাঞ্চকর পথে। মেসি প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছে, যেটা তার প্রাপ্য। অভিনন্দন আর্জেন্টিনা, নিশ্চয়ই ডিয়েগো এখন হাসছে।”

 

View this post on Instagram

A post shared by Pelé (@pele)

তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছেন:

পেলে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনবার ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছেন। তিনি তার ক্যারিয়ারে ৪টি ফিফা বিশ্বকাপ খেলেছেন। এর মধ্যে জিতেছেন ৩টিতে। প্রথম বিশ্বকাপ সুইডেনে (১৯৫৮), দ্বিতীয়টি চিলিতে (১৯৬২) এবং তৃতীয় মেক্সিকোতে (১৯৭০)। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড।

প্রথম বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে খেলতে নামেন সুইডেনের বিপক্ষে। সেদিন তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর ২৪৯ দিন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব চেয়ে কম বয়সি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার রেকর্ডও তার।

১৯৫৬ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পেলের ক্যারিয়ারঃ

পেলে ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলেছেন। তিনি সান্তোসের হয়ে ৬৫৬টি ম্যাচে ৬৪৩ গোল করেছেন। একই সময়ে, ক্লাবে থাকাকালীন, ২১টি ট্রফিও জিতেছেন। তিনি ৯২ ম্যাচ খেলে ৭৮ গোল করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি ক্লাব ফুটবল খেলতে থাকেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে সান্তোসে যোগ দিয়ে দ্রুতই সান্তোসে তুমুল আলোচনার জন্ম দেন পেলে। এরপর জুনিয়র দল থেকে ১৯৫৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয়ে যায় তার। করিন্থিয়ানস সান্তো আন্দ্রের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি করেন পেলে।

এরপর ১৯৫৭ সালের ৭ জুলাই ব্রাজিলের হয়ে প্রথম আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামেন, যদিও ম্যাচটি অবশ্য ২–১ ব্যবধানে হেরে যায় ব্রাজিল।

পেলে তার ক্যারিয়ারে ৯২টি ম্যাচ খেলে ৭৮টি গোল করেছেন। তার পর ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। নেইমার ৭৭ গোল করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে অবসর নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here