রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর দায়ের করা ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান শারুদসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার গ্রেপ্তারের পর আজ সোমবার মেট্রোপলিটন হাকিম আদালত-৫ এ তাদের হাজির করে পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে মামলার মূল আসামী শারুদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক সেলিম রেজা।

সোমবার নগরীর মতিহার থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২৪ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটলে ২৭ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া বাকি চার জন কারাগারে রয়েছে।

মাহফুজ শারুদ ও ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের রাফসান আহমেদ, প্লাবন তালুকদার, কাজলা এলাকার জীবন ও তারেক মাহমুদ জয়। তবে ঘটনায় জড়িত একজন পলাতক রয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে মতিহার থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, ‘কয়েক মাস আগে শারুদ ও ভুক্তভোগীর মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গল্প করার কথা বলে শারুদ তার বান্ধবীকে কাজলা সাঁকপাড়া এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন প্লাবন। তারা যাওয়ার পর প্লাবন বাইরে চলে যায়। এসময় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন শারুদ। এমনকি পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশলে শারুদের বন্ধু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যায়ের আইন পড়ুয়া প্লাবন সরকার, রাফসান; কাজলা এলাকার জয়, জীবন ও বিশাল মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে।’

‘ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ শেষে ভুক্তভোগীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তারা। পরে টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পুরো ঘটনাটি পরিবারের কাছে জানালে ২৭ জানুয়ারি দুপুরে মা-বাবার সঙ্গে মতিহার থানায় যান ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে ছয় জনকে আসামী করে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।’

ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, মামলা দায়ের করার পরই মতিহার পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শারুদ ও তার দুই সহযোগী প্লাবন ও রাফসানকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের কাছ থেকে ভিডিওসহ মোবাইলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সবশেষ রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনায় জড়িত জীবন ও জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক বিশালকে গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাড়ির মালিক হাসান জানান, তিন মাস আগে আসামীদের বাড়ি ভাড়া দিলেও তাদের আচরণ সুবিধাজনক মনে হয়নি। তাদেরকে এক মাস পরই রুমটি ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। তারা অনুরোধ করে জানুয়ারি পর্যন্ত থাকে। এর মধ্যে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে সেটা জানতাম না। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলে আমি বিষয়টি জানতে পারি।

এ বিষয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, এখনো এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগপত্র দেয়নি। যদি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। তাছাড়া ওই শিক্ষার্থীর করা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং আদালতের রায়ে বিষয়টি প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here