রাবিতে শিক্ষক যোগদানে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, তারপরও নিয়োগ

0
43

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে সদ্য নিয়োগ পাওয়া তিন শিক্ষকের নিয়োগ হাইকোর্টে বাতিল হলেও ওই শিক্ষকদের বিভাগে যোগদান করিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ক্লাসে যোগ দিয়েছেন বলে জানান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ক্রপ সায়েন্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যেও দায়িত্বে এসে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা শিথিল করেন। এবং ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই বিভাগটিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পুনঃসংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে বিভাগের শিক্ষক ও প্ল্যানিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক মু. আলী আসগর নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ আগস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

এর মধ্যেই চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি তিন সদস্য দ্বিমত পোষণ করা সত্ত্বেও উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৭তম সিন্ডিকেট সভায় রেজভী আহমেদ ভূঁইয়া, শামসুন্নাহার ও মোক্তার হোসেন নামের তিন প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে ২৮ জানুয়ারি এই নিয়োগকে বাতিল ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষকে তিরস্কার করেন হাইকোর্ট। এরপর বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আলতাফ হোসাইন বলেন, আপিলের ভিত্তিতে সোমবার মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হস্তান্তর করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহ পরে মামলাটির শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সময় পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যোগদান করেছেন ওই তিন শিক্ষক। এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তিন শিক্ষককে বিভাগে যোগদান করানো হয়েছে। তারা এখন বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন।

হাইকোর্টের রায়কে উপেক্ষা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের বিষয়। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৬ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় ওই তিন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার দপ্তরে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি কথা বলতে অসম্মতি জানান। এমনকি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে দপ্তরের বাইরে তার দেখা মিললেও তিনি কোনো কথা বলতে চাননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাড়া দেননি। পরে তার দপ্তরে যোগাযোগ করলেও তিনি দেখা করতে পারবেন না বলে দপ্তর থেকে জানানো হয়।