বাংলাদেশি তাড়াতে মুম্বাইয়ে বিশাল জনসভা

0
105

ভারত থেকে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের তাড়ানোর দাবিতে দেশের বাণিজ্যিক নগরী রাজধানী মুম্বাইতে বিশাল জনসমাবেশ করেছে ‘মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা’। দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন ও নতুন নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে এই জনসভার ডাক দিয়েছিল রাজ্যের প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক দলটি।

৯ ফেব্রুয়ারি, রবিবার অনুষ্ঠিত ওই মিছিল-জনসভায় লক্ষাধিক মানুষ হয়েছে। এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এ সময় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার নেতা রাজ ঠাকরে ঘোষণা করেন ‘ভারত কোনো ধর্মশালা নয়, এখান থেকে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের তাড়িয়েই ছাড়া হবে।’

কথিত বাংলাদেশিদের দেশছাড়া করার বিষয়টি ভারতে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে বেশ কিছুকাল ধরেই। কিন্তু এই প্রথম এ দাবিতে এতো বড় মাপের রাজনৈতিক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হল। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওতে হিন্দু জিমখানা গ্রাউন্ড থেকে শহরের দক্ষিণ প্রান্তে আজাদ ময়দান পর্যন্ত বিস্মৃত ছিলো এই পদযাত্রা।

স্থানীয় মারাঠা সংবাদদাতা ময়ূরেশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, ‘দলের গেরুয়া পতাকা নিয়ে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক এদিন যেন মুম্বাইকে গেরুয়াতে রাঙিয়ে তুলেছিলেন। অচল হয়ে গিয়েছিল মেরিন ড্রাইভ।,আর এই জনসভার প্রধান দাবিই ছিলো ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের এদেশ থেকে তাড়াতে হবে।’

উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের ভাইপো রাজ ঠাকরে শিবসেনা থেকে বেরিয়ে এসে ‘মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা’ নামে নিজের দল গড়ে তোলেন প্রায় চৌদ্দ বছর আগে।

রাজ ঠাকরে তার ভাষণে বলেন, ‘ভারত কোনো ধর্মশালা নয়, যে যেখান থেকে খুশি এসে যে কেউ এখানে বসে যাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জলের মতোই অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করাও দেশের জন্য একটি মৌলিক ইস্যু – আর সেই জন্যই আমরা বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের হঠানোর ডাক দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্রিটেন-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়াও তো অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, আর ভারত করলেই সমস্যা? আমি পরিষ্কার বলতে চাই, এই ইস্যুতে আমরাও অস্ত্র হাতে নিতে রাজি।’

মহারাষ্ট্রের নানা প্রান্ত থেকে রাজ ঠাকরের ডাকে যে হাজার হাজার সমর্থক এদিন মুম্বাইতে জড়ো হয়েছিলেন, তাদেরও মূল বক্তব্য ছিল ভারতের সামনে এখন এই অবৈধ বিদেশিরাই প্রধান বিপদ।

জনসভায় যোগ দেয়া গোপাল বাপট নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের দেশটা যেন এখন পাকিস্তানি আর বাংলাদেশিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই আখড়া ভাঙতে না-পারলে ভারতের সমূহ সর্বনাশ। রাজসাহেব তো ঠিকই বলছেন, অনেক হয়েছে – এদের এবার এখান থেকে বের করো, নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাও।’

নাসিকের বাবাজি আমট নামে অন্য একজন বলেন, ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে আসা এই সব অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে ঢুকে গোটা দেশটাকে ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’ – মানে তলায় তলায় কব্জা করে ফেলেছে। এরা সংখ্যায় লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি – আর এদের এখনই আরব সাগরে ছুঁড়ে ফেলে নিজের দেশে চলে যেতে বলা দরকার।’

কথিত বাংলাদেশিদের তাড়ানোর ইস্যু এক সময় দিল্লিতে বিজেপির বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিলো। যদিও দিল্লির সাম্প্রতিক নির্বাচনে অবশ্য সেটা তেমন কোনো কাজে দেয়নি। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ ভারতের ব্যাঙ্গালোরে বা পশ্চিম ভারতের মুম্বাইতে সেটাকে বড় ইস্যু করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।