afif miraz
Photo Credit: ICC/Twitter

ক্রিকেটইনফোর(espncricinfo.com) শিরোনাম দেখলে বুঝা যায় যে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ৬ উইকেটে বাংলাদেশের ছিল মাত্র ৪৫ রান। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারন নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ । এর জয়ের ফলে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় আফগানিস্তান। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজের বলে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে আউট হন আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন নাজিবুল্লাজ জাদরান। তিনি ৮৪ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় এই রান করেন। এছাড়া ৬৯ বলে ৩ চারে ৩৪ রান করেন রহমত ও হাসমতউল্লাহ ২৮ রান করেন । সফরকারী দলের হয়ে তেমন একটা সুবধা করতে পারেনি আর কোন ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত আফগানরা সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৯.১ ওভারে ২১৫ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ মোস্তাফিজুর রহমান ৩৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন । এছাড়া শরিফুল, সাকিব ও তাসকিন নেন দুটি করে উইকেট। অন্যদিকে মাত্র এক ওভার বল করে মাহমুদউল্লাহ পান এক উইকেট।

জয়ের জন্য রান কম হলেও বাংলাদেশ শুরুতেই উইকেট হারাতে থাকে। কেও ভাবতেই পারেনি যে, ১৮ রানে প্রথম সারির ৪ ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাবে। এর মধ্যে শুরুতেই তৃতীয় ওভারে লিটন দাস ১ ও তামিম ইকবাল ৮ রান করে আউট হন ।

এরপর আবারও পঞ্চম ওভারে ফারুকির প্রথম বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন মুশফিক। ৫ বলে মাত্র ৩ রান করেন। একই ওভারে ফারুকির শেষ বলে অভিষিক্ত ইয়াসির আলী রাব্বি ০ রানে আউট হন ।

এভাবে ৪ উইকেট হারিয়ে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ রানের গতি বাড়াতে চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ১০ রানে স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে আউট হয়ে সাজ ঘরে ফিরে যান সাকিব। এরপর দলের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহও টিকতে পারলেন না । ১২তম ওভারে দলীয় ৪৫ রানের মাথায় ১৭ বলে ৮ রান করে রশিদ খানের বলে গুলবাদিনের হাতে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। এভাবেই ১১.২ বলে শেষ হল বাংলাদেশের ৬ উইকেট ।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখ যায় যে – তামিম ৮, লিটন ১, সাকিব ১০, মুশফিক ৩, ইয়াসির ০, মাহমুদউল্লাহ ৮

এরপর শুরু হল বাংলাদেশের জয়ের কাহিনী । আর মাত্র ৪ উইকেট হাতে রয়েছে । মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন জুটি বেঁধে শুরু করলেন দল বাঁচানোর লড়াই। ৪ ১, ২ – এভাবেই দুইজন মিলে দলের রান বাড়াতে থাকেন ।

এক সময় ২৩ ওভারে বাংলাদেশ ১০২ রান করে। তখন মিরাজের ব্যক্তিগত রান ছিল ৩৯ বলে ২৫ ও আফিফের ৪১ বলে ৩৪ রান । জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল ২৭ ওভারে ১১৪ রান । হাতে মাত্র ৪ উইকেট ।

জয়ের দৃঢ় প্রত্যয় ছিল তাদের মনে। হাল ছেড়ে দেননি । কোনও তাড়াহুড়ো করেননি । ধীর স্থির ভাবে দেখে শুনে ব্যাট চালিয়ে যান । রানও আসতে থাকে । এভাবেই ৩৬ ওভার শেষে দলীয় রান দাঁড়ায় ১৫৪। এর মধ্যে দুইজনই হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন । মিরাজ করেন ৭৯ বেল ৫৩ রান এবং আফিফ ৫৭ রান করেন ৭৯ বলে । জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ ওভারে ৬২ রান । তখনও কেও হয়ত ভাবতে পারেনি এরাই জয় নিয়ে আসবে ।

খেলা চলতে থাকে । রানও আসতে থাকে । শেষ পর্যন্ত ৪৬ ওভারে ২০০ রান করে জয়ের কাছে চলে আসে বাংলাদেশ দল। দুজনের সাবলিল ব্যাটে শঙ্কা কাটিয়ে ৪৮ ওভারে ২১২ রান করে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। আর মাত্র ৪ রান হলেই হবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। হাতে রয়েছে ১২ বল ও ৪ উইকেট । ৪৯ ওভারেই দেখা দেয় কাঙ্খিত সেই জয় । ৪৮ ওভারে বাংলাদেশের রান আসে বল প্রতি –

৪৮.১ – ০
৪৮.২ – ১
৪৮.৩ -২
৪৮.৪ – ০
৪৮.৪ – ৪

এভাবেই ১ বল ও ১ ওভার বাকি থাকতেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ২১৯ রান।

তাদের এই জুটি এক দিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সপ্তম উইকেটে ১৭৪ রানের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে সপ্তম উইকেট ১২৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন ইমরুল কায়েস। তবে সপ্তম উইকেটে বিশ্ব রেকর্ডটি ১৭৭ রানের। বার্মিংহামে ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও আদিল রশিদ এই কীর্তি গড়েন।

কিন্তু বাংলাদেশের ম্যাচ শেষে কিছুটা হলেও বিচারকরা দ্বিধায় পড়েন, কে হবে ম্যাচ সেরা । মিরাজ ১২০ বলে অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি চার । অন্যদিকে আফিফ ১১টি চারের পাশাপাশি ১টি ছক্কা সহ ১১৫ বলে ৯৩ রান করেন । কিন্তু ম্যাচ সেরা হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি ১০ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেলেও রান দিয়েছেন ২৮, মেডেন তিনটি। তবে, দর্শকদের বিচারে আফিফও ম্যাচ সেরা হয়েছেন ।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, সত্যি বলতে, ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর বিশ্বাস করিনি আমরা জিততে পারব। তবে দুজনের অবিশ্বাস্য ইনিংসের জন্য আমি খুব গর্বিত এবং খুশি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ৪৯.১ ওভারে ২১৫ (নাজিবউল্লাহ ৬৭, নবি ২০, নাইব ১৭*; মুস্তাফিজ ৯.১-০-৩৫-৩, তাসকিন ১০-০-৫৫-২, সাকিব ৯-১-৫০-২, শরিফুল ১০-১-৩৮-২, মিরাজ ১০-৩-২৮-০, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৪-১)

বাংলাদেশ: ৪৮.৫ ওভারে ২১৯/৬ ( আফিফ ৯৩*, মিরাজ ৮১*; ফারুকি ১০-১-৫৪-৪, মুজিব ১০-০-৩২-১)

ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: মেহেদী হাসান মিরাজ

আগামী শুক্রবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, ইয়াসির আলি চৌধুরি, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here