সারাদেশে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে বুধবার স্থগিত করা হয়েছে রাজাকারের তালিকা। মহান বিজয় দিবসের আগের দিন গত রোববার ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সারাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে শেষ তালিকা প্রকাশের ৪ দিনের মাথায় তা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ক ম মোজাম্মেল হক। যাচাই বাছাই করে আগামী ২৬ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রকাশের দায় নিলেও তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পেয়েছে বলে দাবি করছে। তারা বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজাকারের তালিকা চাওয়ার পর তাদের এই তালিকা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকায় কার নাম যুক্ত করেছে বা বাদ দিয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই।

প্রথম দফায় এই তালিকা প্রকাশের পর বরিশাল, বরগুনা, রাজশাহী, বগুড়া ও ঝালকাঠি জেলার মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও একাত্তরের আওয়ামী লীগ নেতাদের কয়েকজনের নাম দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ কর্মসূচিও দেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধারা এসব ভুল দ্রুত সংশোধন করে নতুন তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। আর এই ভুলের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম।