Home লাইফ স্টাইল

“খুশকি” থেকে বাঁচার ১২টি প্রাকৃতিক উপায়

SHARE

খুশকির সমস্যায় ভোগেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানানো হয়- শুষ্ক মাথার ত্বক, মাথার ত্বকে ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে খুশকির সৃষ্টি হয় এবং চুলকায়। খুশকির কারণে অনেকের চুলও পড়ে যায়। শীতকালে ত্বকের রুক্ষতার কারণে খুশকির সমস্যা বেশি হয়। কিন্তু একটু যত্ন নিলেই খুশকি মুক্ত দীর্ঘস্থায়ী চুল ধরে রাখা যায়।

কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, খুশকির মূল কারণ ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। তবে সুখবর হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই খুশকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

১. অল্প গরম করা ওলিভ ওয়েল স্ক্যাল্পে একঘণ্টা রেখে দিন। তারপর গরম জলে মাথা ধুয়ে ফেলুন। পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খুশকির সমস্যা থাকলে কোনও হেয়ারস্টাইলিং শ্যাম্পু করবেন না।

২. গ্রিন টি’য়ের সাহায্যে এক কাপ ফুটন্ত গ্রিন টিয়ের মধ্যে দুতিন ফোঁটা পিপারমিনট এসেন্সিয়াল তেল মেশান। সঙ্গে এক টেবিল-চামচ সাদা ভিনিগার মিশিয়ে ঠাণ্ডা করুন।

পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে গ্রিন টিয়ের মিশ্রণটি মাথায় মাথায় লাগান। পাঁচ মিনিট ধরে মাথার ত্বক মালিশ করুন। এরপর সালফেটবিহীন হালকা কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।  গোসল করার আগ মুহূর্তে এটা ব্যবহার করুন।

যেভাবে গ্রিনটি কাজ করে: গ্রিনটি ও পিপারমিন্ট এসেন্সিয়াল তেলে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা মাথার ত্বক সুস্থ রাখে ও চুল করে মসৃণ।

৩. গরম জলে ৩-৪ টি নিম পাতা দিয়ে দিন। ভাল করে ফোটান। নিম-জল দিয়ে ভাল করে স্নান করুন। আসলে ব্যাকটেরিয়া দূর করতে নিমের উপকারিতা অনবদ্য। তাই মাথার খুশকি দূর করতে নিমের ওষুধ খুবই কার্যকরী।

৪. আমলা গুঁড়ো ভাল করে পিষে নিন। তাতে তুলসি পাতার রস দিন। এই মিশ্রণটি ভাল করে স্ক্যাল্পে লাগান। এক ঘণ্টা রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে নিন।

৫. নারিকেল তেল দিয়েঃ- পাঁচ টেবিল-চামচ নারিকেল তেলে পাঁচ থেকে ১০ ফোঁটা খাঁটি টি ট্রি তেল মেশান। নিয়মিত মাথায় তেল মালিশ করার মতো করে এটি মালিশ করুন। চুলের আগা পর্যন্ত এই তেল মালিশ করার প্রয়োজন নেই।

যদি আপনার মাথার জন্য আরও বেশি তেলের প্রয়োজন হয় তবে খেয়াল রাখবেন যেন এদের অনুপাত ঠিক থাকে। রাতে এই তেল মালিশ করুন এবং সকালে তা ধুয়ে ফেলুন। যদি সময় স্বল্পতা থাকে তাহলে গোসলের আধ ঘণ্টা আগে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।।

নারিকেল তেলে আছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান যা ফাঙ্গাস ধ্বংস করতে ও খুশকি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। টি ট্রি তেল চুলকে উজ্জ্বল করে।

৬. যাদের ওয়েলি স্কিন, তাঁরা ভিটামিন ই ( অ্যাভাক্যাডো) ও জিঙ্ক ( সি-ফুড, বাদাম, ডাল) খাবার খান।

৭.  সবচেয়ে ভাল উপায় হল, রোজ সকালে লেবুর রস খান। তাতে খুসকির সমস্যা অনেকটা দূর হবে।। অনেকে আবার লেবুর রস স্ক্যাল্পে লাগান। এটাও করতে পারেন। তবে সরাসরি লেবুর রস দেবেন না। এতে চুল পড়ে যায়। গরম জলে লেবুর রস দিয়ে মাথায় দিন। ১৫ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এতে খুশকি তো দূর হবেই, চুলকানি থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

৮. অলিভ ওয়েল ও আমন্ড তেল–দুটি একসঙ্গে মেশান। স্ক্যাল্পে ৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। অল্প অল্প মাসাজ করুন। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অলিভ ওয়েল চুলের কন্ডিশনারের কাজ করে। রাতে শোবার আগে অলিভ ওয়েল লাগাতে পারেন। মাথায় একটি সুতির তোয়ালে লাগিয়ে শুতে যান। সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে ২-৩ বার করলে উপকার পাবেন।

৯. ভিটামিন-বি, বি৬, বি১২ ও ভিটামিন-ই জাতীয় খাবার খান। এতে মাথায় ওয়েলি ভাব দূর হয়, খুশকির সমস্যাও কমে যাবে। চুলের যত্ন নিতে প্রচুর পরিমানে জল ও ফল ও শাক-সবজি খান। মিষ্টি জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভাল। কাফিন জাতীয় পানীয় ও খাবার খাওয়া কম করুন।

১০. চুলের সমস্ত সমস্যার একমাত্র উপায় হল অ্যালোভেরার জেল। এটি একটি প্রাকৃতিক ভেষজ, যা চুলের স্বাভাবিক ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে।

১১. খুশকির সমস্যা থাকলে তেল ব্যবহার না করাই ভাল। তবে বেবি ওয়েল লাগাতেই পারেন। বেবি ওয়েল লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ম্যাসাজ করুন। তারপর একটি তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে রাখুন সারারাত। পরের দিন হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

১২. টক দইয়ের হেয়ার মাস্কঃ- সামান্য টক দই নিয়ে তা গাজানো বা ফার্মেন্টেশনের জন্য দুএকদিন খুলে রাখুন। এরপর মাথার ত্বকে লাগিয়ে এক ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর মৃদু কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। গোসল করার এক ঘন্টা আগে এটা ব্যবহার করুন। টক দইয়ের অম্লিয় উপাদান খুশকি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। আর চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ হতে সাহায্য করে।