ফিরে দেখা ২০২০: করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন যেসকল শিল্পপতি

0
33

বিদায় নিচ্ছে আরও একটি বছর। বিদায়-বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঘটে গেছে নানান ঘটনা। বিশেষ করে করোনাকালে (এপ্রিল-ডিসেম্বর ২০২০) দেশে ৩৩ জন শিল্পপতির মৃত্যু হয়েছে।

দেশের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ হাসেম করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর কারোনা শনাক্ত হওয়ার পর এম এ হাসেমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৬ ডিসেম্বর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।

আলী যাকের ছিলেন অভিনেতা, মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন সফল ব্যবসায়ী। দেশের বৃহৎ বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির কর্ণধার ছিলেন তিনি। গত ২৩ নভেম্বর তার করোনা পজিটিভ আসে। গত ২৭ নভেম্বর ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন এস আলম গ্রুপ ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদুল আলম। তিনি এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং চেমন ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ৬৫ বছর বয়সে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ২২ মে তিনি মারা যান।

বেসকারি হাসপাতাল পপুলারের চেয়ারপারসন তাহেরা খানম ১০ জুন মারা যান। তার করোনা পজিটিভ থাকলেও হৃদরোগের কারণে তিনি ঢাকার অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

২৫ জুন মারা যান শিল্পপতি হাসান জামিল সাত্তার। তিনি ছিলেন ময়নামতি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে ১৫ জুন। করোনায় তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৩ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিনের মেজো ছেলে ও আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক শেখ মোমিন উদ্দিন মারা যান গত ২৪ আগস্ট। তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চট্টগ্রামের আরেক শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরী। ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি লাতিন আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও থাই চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

চা শিল্পের খ্যাতিমান ব্যবসায়ী আজমত মঈন ৬৮ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। তিনি ছিলেন মৌলভী চা কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সুরমা চা কোম্পানির পরিচালক।

এছাড়া পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল ফেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন মাহমুদ, মোনেম গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মোনেম খান, ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এবং এফবিসিসিআই সাবেক সদস্য ইমামুল কবির শান্ত, বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সদস্য সাদিক আহসান, বাংলাদেশ প্লাস্টিক রাবার সু মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও সাবেক এফবিসিসিআই সদস্য হাজী মো. মনসুর আলী, বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আলহাজ সিরাজ উদ্দিন দেওয়ান, বাংলাদেশ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ড্রেস মেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মো. আব্দুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও সাবেক এফবিসিসিআই পর্ষদ সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ শের মোহাম্মদ, ন্যাশনাল কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. কামরুল হুসেন চৌধুরী (গোর্কি), বাংলাদেশ মনিহারি বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান, বাংলাদেশ মেটাল ওয়্যার অ্যান্ড ওয়্যারনেইলস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সহ-সভাপতি মো. মোবারক হোসেন, রয়েল ট্রেডিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী বদরুল হুদা মুকুল, এফবিসিসিআইয়ের সদস্য মো. হাবিবুল্লাহ ও বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতির সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সদস্য মো. বাচ্চু মিঞা মারা গেছেন।

মারা যাওয়া ব্যবসায়ীর মধ্যে আরও আছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ, রহমত গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ আলী সরকার, এনএফকে টেক্সটাইলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, পার্ল প্রিনস বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান তসলিম আক্তার ও অ্যাপারেল ফেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন মাহমুদ।

এদিকে, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী করোনা থেকে সুস্থ হলেও তার স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুর মারা যান। তিনি সানবিম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং এসএমসির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।