সাতদিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ চলছে

0
5
Coronavirus-Lockdown

ঘোষণা অনুযায়ী আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে সাতদিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে এই বিধিনিষেধকে আরোপ করা হয়েছে।

আজ সকাল ৬টা থেকেআগামী ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সাত দিন এই কড়াকড়ি আরোপ থাকবে। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কিছু বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, এই ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ চলাকালীন সময়ে জরুরি সেবা ও শিল্প-কলকারখানা ছাড়া সরকারি, বেসরকারি অফিস এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এই সময়ে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। শিল্প-কলকারখানা কর্তৃপক্ষকে কর্মীদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় আনা-নেওয়া করতে হবে। সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন লকডাউনের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দেবে।

এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা গ্রহণের প্রয়োজনে টিকার কার্ড দেখিয়ে বের হওয়া যাবে। এছাড়া ঔষধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার- ইত্যাদি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া যাবে।

এদিকে আজ থেকে শুরু হওয়া ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ এর জন্য ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনের আগের দিন যেভাবে মানুষ গ্রামে ফিরেছে, তাতে সংক্রমণ আরও বাড়বে। গ্রামে ফেরা অনেকে সংক্রমিত থাকতে পারেন। তারা গ্রামে গিয়ে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও এলাকায় অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন।

এরই মাঝে লকডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সরকারে বিভিন্ন সংস্থার তরফ থেকে। পুলিশের পক্ষ থেকে সড়কে চলাচলের জন্য মুভমেন্ট পাস চালু করা হয়েছে। যা না থাকলে কেউ সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহনেও চলাচল করতে পারবেন না।

‘সর্বাত্মক লকডাউন’ এর কঠোর বাস্তবায়নের প্রয়োজন দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সেটির কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য কঠোর হতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছিলো। এরপর থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে, করোনার বিস্তার রোধে ওই বছর ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এই ছুটি কয়েক দফায় বেড়ে একটানা ৬৬ দিন চলেছিলো।

জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক করতে ওই বছরের মে মাসের পর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। গত বছরের শেষ ও চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণের হার অনেক কম ছিল।

কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আবারও করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই রেকর্ডসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হচ্ছে। এমন প্রেক্ষিতে আবারও ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ গেছে সরকার।