ছোট ছোট পারিবারিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল নিহত সগিরা মোর্শেদ ও তার জা সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীনের মধ্যে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা থাকতেন রাজারবাগের ৯৫৫ আউটার সার্কুলার রোডের বাসায়। পারিবারিক কলহের জের ধরে সগিরাকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন।

পরিকল্পনায় শরিক হন তার স্বামী ডা. হাসান আলী চৌধুরী। তিনিই তার এক পেশেন্ট মারুফ রেজাকে শায়েস্তা করার কাজটা দেন। আর এই কাজে সহযোগিতার দায়িত্ব দেয়া হয় আনাস মাহমুদ রেজওয়ানকে।

সে অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে ভিকারুননেসা স্কুলের সামনে প্রথমে সগিরা মোর্শেদের হাতে থাকা বালা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মারুফ রেজা। বাধা দেয়ায় সগিরাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

একজন রিকশাচালকের তথ্যে ত্রিশ বছর আগের ঢাকার এই চাঞ্চল্যকর খুনের মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন প্রকৃত আসামি।

যারা ইতিমধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সগিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এঁরা হলেন মারুফ রেজা, আনাস মাহমুদ, আনাসের দুলাভাই চিকিৎসক হাসান আলী চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন (আনাসের বোন)।

সেই রিকশাচালকের নাম ছালাম মোল্লা। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫৬ বছর। খুনের ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ছালামের সামনে ৩০ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই রমনা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী সগিরা মোর্শেদ খুন হন।