জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজারবাইজানের বাকুতে ৪৩তম সভায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে গতকাল প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সুন্দরবনে আসবে। তারা সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও পানিপ্রবাহের ওপর একটি সমীক্ষা করবে। চারপাশের শিল্পকারখানা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করে দেখবে।

বাংলাদেশের পক্ষে কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে।

সেই সাথে আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, বুরকিনাফাসো, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতসহ ১৫টি সদস্য দেশ সরাসরি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেয়।

কমিটিতে সুন্দরবন সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবনের চারপাশে ১৫৪টি শিল্পকারখানা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

কমিটি বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে।

সুন্দরবনের সুরক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ১১ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে জমা দিতে হবে।