রুম্পার মৃত্যু: ভবনের ছাদে ‘জুতার ছাপ’ নিয়ে রহস্য

0
154
photo credit: rumpa/facebook

দুই ভবনের মাঝ থেকে উদ্ধার হওয়া রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু নিয়ে রহস্য ক্রমেই জটিল হচ্ছে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ঘটনাস্থলের পাশের এগার তলা একটি ভবনের ছাদে দুটি জুতার ছাপ পাওয়া যাওয়ায় এ রহস্য আরো ঘনীভূত হয়।

ধারণা করা হচ্ছে এগুলো রুম্পার জুতার ছাপ। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ওই ছাপ ও জুতার ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, যদি ওই কার্নিশ থেকে রুম্পা নিচে পড়ে যান তবে স্বেচ্ছায় ভবন থেকে লাফ দিয়েছেন বলে যে ধারণা করা হচ্ছে সেটি জোরালো হবে। তবে তাকে কেউ নিচে ফেলে দিয়েছে কিনা সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির প্রধান গেটের সামনে রুম্পার লাশ পড়েছিল। আশেপাশের বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় উপর থেকে বিকট শব্দে কিছু একটা পড়েছিল। পরে বেরিয়ে দেখেন রাস্তায় পড়ে আছে এক তরুণীর লাশ। রুম্পার মরদেহ যেখানে পড়েছিল তার এক পাশে চারতলা এবং অপর পাশে পাঁচতলা একটি ভবন রয়েছে। ওই রাস্তার মাথায় রয়েছে একটি ১১ তলা ভবনের (আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স) পেছন দিক। কিছু সমীকরণ মেলায় ধারণা করা হচ্ছে তিনি ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকেই পড়েছেন।

শুক্রবার রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পাশে তিনটি ভবন রয়েছে। এগুলোর যে কোন একটা থেকে পড়ে রুম্পা মারা গেছেন। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, উপর থেকে পড়েই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে মৃতদেহ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। এ রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে।

বুধবার রাতে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে দুই বাড়ির মাঝ থেকে উদ্ধার করা হয় রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার (২১) মরদেহ।