নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হচ্ছেন সাকিব

0
23

আজকের তারিখটি, ২৮ অক্টোবর যেতেই স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলবেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি যে আজকের পরই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার থেকে আবার সবধরনের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন। জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব পেয়ে আইসিসির কাছ থেকে তা গোপন করার অপরাধে একবছর ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ থাকেন সাকিব। কোন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারেননি। ক্রিকেটের সবধরনের কার্যক্রমেও নিষিদ্ধ থাকেন তিনি। অবশেষে আজকের দিনটি যেতেই তিনি মুক্ত হচ্ছেন।

গত বছর ২৯ অক্টোবর সাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর দেখতে দেখতে একটি বছর চলে গেছে। আজকের পর সাকিব মুক্তও হয়ে যাচ্ছেন। আবার বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডারকে ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে। নবেম্বরের মাঝামাঝি দেশে টি২০ টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টেই সাকিব খেলবেন আশা করা হচ্ছে। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই সাকিব আবার মাঠের ক্রিকেটে ফিরবেন। এরমাঝে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সরকারের কঠোর কোয়ারেন্টাইন নীতির জন্য সফর করতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। সফরটি হলে এই সফরেই সাকিবকে খেলতে দেখা যেত। এ জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছিলেন সাকিব।

গত বছর সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন সাকিব। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছিলেন সাকিব। এরপর যখন ভারত সফর সামনে চলে আসে, এর আগে সাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয়। ভারত সফরের আগে সাকিবের নেতৃত্বে ক্রিকেটাররা আন্দোলনেও নামেন। আন্দোলন শেষ হতেই আইসিসি থেকে সাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয়। এক বছরের নিষিদ্ধ সময় অবশ্য সাকিব খুব বেশি খেলা হাতছাড়া করেননি। মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বেও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সব খেলাই বন্ধ থাকে। সাকিবের নিষিদ্ধ হওয়ার পর মার্চে সবধরনের খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি টি২০, দুটি টেস্ট, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটি টি২০, দুটি টেস্ট, জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি২০ ম্যাচ খেলতে পারে। মোট ৭টি টি২০, ৫টি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে পারে। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি ওয়ানডে, একটি টেস্ট, আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ানডে, চারটি টি২০, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি টেস্ট খেলার কথা ছিল। সঙ্গে এশিয়া কাপ টি২০, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি টি২০ এবং টি২০ বিশ্বকাপও খেলার কথা ছিল। এই সবকটি ম্যাচই সাকিব খেলতে পারতেন না। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কোন ম্যাচ, সিরিজ, টুর্নামেন্টই খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। তাতে করে সাকিবেরও এইসব ম্যাচ, সিরিজ, টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হাতছাড়া হয়নি।

করোনাভাইরাস যেন সাকিবের ভাগ্য সুপ্রসন্ন করে দিল। বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাকি ক্রিকেটারদের এই ম্যাচ, সিরিজ, টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো না খেলতে পারায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কোটি টাকা হাতছাড়া হয়েছে। সেখানে নিষিদ্ধ হয়েও সাকিবের লাভ হয়ে গেছে। এই ম্যাচগুলো যে হাতছাড়া হয়নি। এখন সাকিব আবার ক্রিকেটে ফিরছেন। এখন আছেন পরিবারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে। করোনাভাইরাসের সময় সাকিবের দ্বিতীয় কন্যা সন্তান পৃথিবীতে আসেন। তখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন সাকিব। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা সফরের উদ্দেশে দেশে ফিরে প্রস্তুত হতে থাকেন। শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত হওয়ায় আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এবার টি২০ টুর্নামেন্ট খেলতে নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরে আসবেন সাকিব। ১০ নবেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমনটি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সাকিব এই টুর্নামেন্টে খেলবে। ১০ নবেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আসবে সে।’ দেশে ফিরে এসে প্রস্তুত হবেন। আবার নিজের ঝলকানি দেখাতে মাঠে নেমে পড়বেন। এবার আর বিকেএসপিতে নয়, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই সাকিবকে দেখা যাবে। আবার দেশের সেরা অলরাউন্ডারকে ক্রিকেট খেলতে, ব্যাট-বল হাতে দেখা যাবে। যেদিন সাকিব ব্যাট-বল হাতে আবার ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়বেন, সেদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য মহাখুশির দিন হবে। সাকিবের জন্যও মহাআনন্দের দিন হবে। আজকের পরই বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে সাকিব দেশে ফিরে আবার ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়বেন।