বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রাইসউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন। দেশের ক্রিকেটের উত্থানের শুরুর দিনগুলোতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাইসউদ্দিন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই সংগঠকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিসিবি।

বোর্ডের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, ‘রাইসউদ্দিন আহমেদ এমনই একটা সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কাজ করেছিলেন, যখন দেশের ক্রিকেট উত্থানের জন্য সংগ্রাম করছিল। তার মতো মানুষদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টায়তেই দেশের ক্রিকেট বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে আমি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’

১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত সেই সময়ের বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিবি) জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন রাইসউদ্দিন। পরে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিলেন বোর্ডের সহ-সভাপতি। বাংলাদেশে প্রথম কোনো বিদেশি দলকে আমন্ত্রণ জানানো, আইসিসির সদস্যপদ পাওয়া, সবই ছিল তার উদ্যোগে।

বাংলাদেশ বিমানের চিফ অব অ্যাডমিন ছিলেন তিনি। সেই সুবাদে লন্ডন যাওয়া হতো তার প্রায়ই। এমসিসিতে (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব) তার যাতায়াত ছিল নিয়মিত। সেই সম্পর্ক থেকেই তিনি এমসিসি দলকে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশে। ১৯৭৭ সালে সফরে আসে অভিজাত এই ক্লাব। বাংলাদেশ বিমান থেকে টিকেটের ব্যবস্থাও করেছিলেন তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে স্পন্সর প্রথাও শুরু হয় তখন থেকে।

সেই সফর থেকে ফিরে এমসিসি দল ইতিবাচক রিপোর্ট দেওয়ার পরই বাংলাদেশের আইসিসি সহযোগী সদস্যপদ হওয়ার পথ খুলে যায়।

শুধু এমসিসিই নয়, রাইসউদ্দিনদের উদ্যোগে সেসময় শ্রীলঙ্কা, হায়দরাবাদ ব্লুজ, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন বিদেশি দল আসে বাংলাদেশ সফরে। ক্রিকেট দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সেই দলগুলির সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করা হয় ঢাকার বাইরেও। দেশে স্কুল ক্রিকেট চালু হয়েছিল তার উদ্যোগেই।